
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জেন জি বিক্ষোভের পর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রতিবাদী মনোভাব আরও জোরালো হয়েছে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সেই প্রতিবাদের আড়ালে উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগও উঠছে। এবার এমনই এক জেন জি তরুণীর আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। সোশাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন আবদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদের নামে এ ধরনের আচরণকে কি শুধুই ‘জেন জি’ তকমা দিয়ে বৈধতা দেওয়া যায়? একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেছেন, কেন এই পরিচয়ের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
কাশ্মীরের রাস্তায় বিক্ষোভরত এক তরুণীর ভিডিও পোস্ট করে সোশাল মিডিয়ায় ওমর আবদুল্লাহ লিখলেন, ‘আগে কাউকে হুমকি দেওয়ার জন্য বলা হত, জানিস আমার বাবা কে। এখন যেন সেটার বদলে ‘আমরা জেন জি’ শব্দটা ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে একটি প্রজন্মের সুনাম দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। কোথাও সামান্য কিছু হলেই এই শব্দটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করলে আসলে ‘
ওমর যে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন, তাতে এক তরুণীকে দেখা যাচ্ছে একটি পুলিশ চেকপোস্টের সামনে তুমুল চিৎকার করতে। তিনি চেঁচিয়ে বলছেন, “আমরা জেন জি, এই অসভ্যতামি সহ্য করব না। চলুন এখনই বিক্ষোভে বসব।’ কাশ্মীর পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ভিডিওটি আসলে কার্গিল বিজয় দিবসের। সোশাল মিডিয়ায় সেটি ছড়িয়ে পড়েছে। সেদিন ওই তরুণী দ্রাস থেকে সোনমার্গের দিকে যাচ্ছিলেন। সেসময় নিরাপত্তা জনিত কারণে সাধারণ যাত্রীদের গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছিল। ওই সময় এক মন্ত্রীর গাড়ি যেতে দেওয়া হয়। একদিকে যাত্রীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে, অন্যদিকে মন্ত্রী আসতেই তাঁকে ছাড় দেওয়া, সব মিলিয়ে মেজাজ হারান তরুণী।
তিনি গাড়ি থেকে নেমে অন্যান্য গাড়ির যাত্রীদের একত্রিত করেন। সবাইকে নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর হুমকি দেন। সোজা বলে দেন, “মন্ত্রীর গাড়ি কেন যেতে দেওয়া হবে। আপনারা কাশ্মীরবাসীর সঙ্গে এত অসভ্যতা করেন, আমাদের মতো টুরিস্টদের সঙ্গেও এগুলো করছেন। এই অসভ্যতা আমরা মেনে নেব না। আমরা জেন জি।” সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সার্বিকভাবে ওই তরুণীর আচরণ দেখে ক্ষুব্ধ বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম মুখ ওমর আবদুল্লা। তাঁর বক্তব্য, এভাবে ছোটখাট বিষয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাটা জেন জি-দের বিক্ষোভের সাফল্যকেই খাটো করছে।
This “we are Gen Z” has become the new “jaantay nahin ho mera baap kaun hai”. The quickest way to erode any Gen Z goodwill is to start using it as a threat at the slightest perceived affront. https://t.co/ya5OJTgxIn
— Omar Abdullah (@OmarAbdullah) August 19, 2026
