
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: একুশে জুলাইয়ের পর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসেও কলকাতায় দেখা গেল তৃণমূলের দুই শিবিরের পৃথক কর্মসূচি। প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে নিশানা করার পাশাপাশি যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা বিজেপিকে মানি না, জানি না, চিনি না, শুনি না।” যাদবপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর দাবি, তাঁর সময়ে পুলিশ অনেক বেশি মানবিক ছিল। বর্তমান পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আমি এই পুলিশকে চিনি না।” একইসঙ্গে তাঁকে বাইরে বেরতে না দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দেন তিনি। বলেন, “মনে রাখবেন, ছাতা কিন্তু সবসময় মাথার উপর থাকবে না।”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে ব্রাত্য থেকে ছাত্র-যুবরাই! যে মঞ্চে আগাগোড়া রাজনৈতক হুঙ্কার-হুঁশিয়ারিই শোনা গেল। বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস। যেখানে যাবে, সর্বনাশ করবে।” বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে ছাত্র যুবদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দেন মমতা। তাঁর কথায়, “রাজনীতি করে ছাত্রদের দমানো যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে বুক পেতে দাঁড়াবেন, বিজোপি হয়ে যাবেন না।” পাশাপাশি পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলে মমতার বক্তব্য, “আপনাদের পরিবারের উপর অত্যাচার হলে সহ্য করতে পারবেন তো? বেঙ্গল পুলিশকে বিশ্বাস করে না সরকার। না হলে এত কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রয়োজন পড়ছে কেন? আমরা কেন্দ্রীয় পুলিশ ছাড়াই ১৫ বছর সরকার চালিয়েছি।” বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলা নিয়েও এদিন আগাগোড়া পুলিশকে আক্রমণ শানান তিনি। মমতার হুঁশিয়ারি, “আমার বাড়ির সামনে বিজেপির পোস্টার ছেয়ে গেছে, খুলতে পারবেন? বিজেপি দেখলেই পুলিশের ক্ষমতা ৫০ ইঞ্চি। গ্রেপ্তার করতে এলে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তা দেন মমতা। শুধু তাই নয়, নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র আক্রমণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি বলেন, “হানিমুন থেকে মানিমুন, ৪ মাসে সব করেছেন। রামজন্মভূমি থেকে পানিহাটি, কাশী বিশ্বনাথ লুট করেছেন। গদ্দার একবার হলে, চিরকাল হয়। গেরুয়া পরার যোগ্যতা আপনার নেই, গেরুয়া পরে ত্যাগীরা। আমাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কেস করেছে। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্ট, ইন্টারন্যাশনাল কোর্টে যাব।”
এর আগে একুশে জুলাইয়ে শহিদ সমাবেশের অনুষ্ঠানের আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করেন মমতা। তিনি জানান, তাঁর বাড়ির সামনে নাকি বেশ কয়েকজন বহিরাগত যুবক সেই সময় ঘোরাঘুরি করছিলেন। জোরে জোরে গান বাজানো হয় বলেও অভিযোগ করেছিলেন। ওই বহিরাগত যুবকদের দৌরাত্ম্যের নেপথ্যে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনকেও দায়ী করেছিলেন মমতা। ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চেও সেই একই অভিযোগ করলেন তিনি। মমতার কথায়, “প্রতিদিন রাত ১০টায় দুটো পাগল পাঠিয়ে দিচ্ছে মদ খাইয়ে। গালাগাল দিচ্ছে। মাতালদের কাজে লাগাচ্ছে।” এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখনও বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে তোপ দাগেন মমতা। বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস। যেখানে যাবে, সর্বনাশ করবে।” বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে ছাত্র যুবদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দেন মমতা। তাঁর কথায়, “রাজনীতি করে ছাত্রদের দমানো যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে বুক পেতে দাঁড়াবেন, বিজেপি হয়ে যাবেন না।”
বিধানসভার গ্রন্থাগারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯টি বই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিম্মায় রয়েছে। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এখনও ওই বই তিনই ফেরত দেননি, এমনটাই অভিযোগ। সরাসরি না বললেও আদতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে বই চুরির অভিযোগ। তা নিয়েই এদিন ফুঁসে উঠলেন মমতা। ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো বললেন, “প্রমাণ ছাড়া কোনও অভিযোগ করবেন না। আমি চাইলে নিজেই লাইব্রেরি বানিয়ে দিতে পারি।” গ্রন্থাগার মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত না দিলে একজন সাধারণ পাঠকের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই প্রসঙ্গেই এদিন সরব হলেন মমতা। তাঁর দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। এদিন ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে তিনি বলেন, “মিথ্যে অভিযোগ করবেন না। আপনাদের কাছে প্রমাণ আছে? আমি নিজে বই লিখি। চাইলে একটা গোটা লাইব্রেরি করে দিতে পারি।”
