Travel

1 hour ago

Tarapith Travel Guide: কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে যাচ্ছেন? মা তারার দর্শনের সঙ্গে ঘুরে দেখুন এই জায়গাগুলিও

Tarapith Temple
Tarapith Temple

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:   আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তারপরই বীরভূমের তারাপীঠে শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী কৌশিকী অমাবস্যা। এই বিশেষ তিথিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই তারাপীঠে ভিড় জমান দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও পর্যটক। পুজো, তন্ত্রসাধনা এবং মা তারার দর্শনকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা এলাকায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই আশাবাদী তারাপীঠ মন্দির কমিটি থেকে শুরু করে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, চলতি বছর কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হবে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। এই অমাবস্যা তিথি থাকবে পরের দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। ফলে এই বিশেষ সময়ে তারাপীঠে ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে গেলে শুধু মা তারার মন্দিরে পুজো দিয়ে ফিরে আসবেন কেন? হাতে যদি কিছুটা সময় থাকে, তাহলে মন্দির দর্শনের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন তারাপীঠের আশপাশের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থানও।

* তারাপীঠ থেকে খুব কাছেই রয়েছে আটলা গ্রাম, যা সাধক বামদেবের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। তারাপীঠে আসা পর্যটকদের কাছে এই গ্রামও অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। আটলা গ্রামে গেলে দেখা মিলবে সাধক বামদেবের প্রাচীন বাড়ির। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি গ্রামের শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশও পর্যটকদের মন ছুঁয়ে যাবে।  

* পাশাপাশি রয়েছে ডাবুক গ্রাম। তারাপীঠ কাছে বর্ধিষ্ণু গ্রাম "ডাবুক"। এই গ্রামেই রয়েছে বীরভূমের উচ্চতম শিবমন্দির। গ্রামের মধ্যস্থলে সুউচ্চ মন্দিরমধ্যে অনাদিলিঙ্গ ডাবুকেশ্বর শিব প্রতিষ্ঠিত আছেন। কথিত রয়েছে, কৈলাসানন্দ স্বামী নামক একজন সন্ন্যাসী বহুস্থান পরিভ্রমণ করে অবশেষে এই গ্রামে উপস্থিত হন। ভিক্ষালব্ধ অর্থে সঞ্চিত প্রায় লক্ষাধিক মুদ্রা ব্যয়ে এই সুবিশাল মন্দিরের নির্মাণকাজ ১২৮৭ বঙ্গাব্দে সমাপ্ত হয়।

* তারাপীঠে মা তারার মন্দির থেকে মাত্র ৩-৪ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে ছিন্নমস্তা মন্দির। এই মন্দিরের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্য হল, এখানে একটি পঞ্চমুণ্ডী আসন রয়েছে, যা বিশেষ করে তন্ত্র সাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে বিশ্বাস করা হয়। দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ছিন্নমস্তার এই পুণ্যক্ষেত্রে বহু সাধক ও ভক্ত মানসিকভাবে শান্তি এবং সিদ্ধিলাভের আশায় আসেন।

* এছাড়াও তারাপীঠ মন্দির থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে রয়েছে মুণ্ডমালিনী তলা। তারাপীঠ ব্রিজের পাশের রাস্তা দিয়ে মিনিট ৫ হেঁটে গেলেই পৌঁছে যেতে পারবেন। এখানে মা কালী মুণ্ডমালিনী রূপে পূজিত হন। তন্ত্র সাধনা এবং তারাপীঠের সামগ্রিক তীর্থযাত্রার ক্ষেত্রে এই স্থানটির বিশেষ আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। মূল মন্দিরে তারা মায়ের দর্শনের পাশাপাশি ভক্তরা মুণ্ডমালিনী তলাতেও যেতে পারেন। 

তাই এবারের কৌশিকী অমাবস্যায় যদি তারাপীঠ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে শুধু মা তারার দর্শনেই সফর সীমাবদ্ধ রাখবেন না। হাতে সময় নিয়ে ঘুরে দেখুন তারাপীঠের আশপাশের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিও। আধ্যাত্মিক আবহের পাশাপাশি ইতিহাস ও প্রকৃতির সান্নিধ্য—সব মিলিয়ে আপনার তারাপীঠ ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে আরও স্মরণীয়। 


You might also like!