
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন অমিত মালব্য। বিরোধীদের পালটা জবাব দেওয়া থেকে শুরু করে অনলাইনে দলের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরা—দলের ডিজিটাল প্রচারে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অন্যতম পরিচিত মুখ। এবার সেই অমিত মালব্যকেই আইটি সেলের শীর্ষ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল বিজেপি। তাঁর জায়গায় নতুন সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তিশগড়ের দীপক মাস্কেকে। একইসঙ্গে দলের সোশ্যাল মিডিয়া টিমেও বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে বিজেপির ডিজিটাল সংগঠন।
সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছিলেন নীতীন নবীন। তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই নিজের টিম সাজাবেন তিনি, এমনটাই জল্পনা ছিল পদ্ম শিবিরে। বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে সোশাল মিডিয়ার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সোশাল মিডিয়ায় জন্মগ্রহণ করা একটি দলের অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাড়া দিয়েছ বহু মানুষ। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপিকেও সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ পর্যালোচনা করতে হবে, মনে করছিলেন বিশ্লেষকদের একাংশ। সেই ‘পরামর্শ’ সম্ভবত মাথায় রেখেছেন নীতীন। দলের সোশাল মিডিয়া বিভাগকে ঢেলে সাজিয়েছেন। কনভেনর দীপকের নেতৃত্বে কাজ করবেন মহারাষ্ট্রের প্রীতি গান্ধী, দিল্লির শিবানন্দ দ্বিবেদী, উত্তরাখণ্ডের অলোক ভাট এবং হরিয়ানার অরুণ যাদব। বিজেপির সোশাল মিডিয়ার নতুন ‘মস্তিষ্ক’ দীপক মাস্কে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন ছত্তিশগড়ের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসাবে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্রের দায়িত্বও সামলেছেন একটা সময়ে। দলের ডিজিটাল কার্যকলাপেও নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
তবে হাইপ্রোফাইল নেতাদের ভিড়ে সেভাবে আলাদা করে নজর করা যায়নি দীপককে। রসায়নের অধ্যাপক হিসাবে কেরিয়ার শুরু করছিলেন। তারপর কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেছেন প্রায় তিরিশ বছর। সরকারি প্রকল্পগুলি কীভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণেও যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে তাঁর। একাধিক সংস্থার জন্য এই ইস্যুতে রিপোর্ট তৈরি করেছেন দীপক। ২০০৯ থেকে ছত্তিশগড় বিজেপির আইটি সেলে যোগ দেন। রাজ্য সরকারের মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড চেয়ারম্যান পদেও ছিলেন। ভোটারদের তথ্য নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার অভ্যাসই দীপককে নতুন দায়িত্বে অনেকটা সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
