Travel

3 days ago

Kailash Mansarovar Yatra 2026: পাঁচ বছর পর ফিরল কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা, পূর্ণ হল ২০২৬-এর তীর্থপর্ব

Kailash Mansarovar Yatra 2026
Kailash Mansarovar Yatra 2026

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরে ফের শুরু হয়েছিল রোমাঞ্চকর কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা। রবিবার শেষ দলটির ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হল ২০২৬ সালের এই তীর্থযাত্রা। গত ১৫ জুন সিকিমের নাথু-লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস—এই দুই রুট দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। সিকিমের নাথু-লা রুট দিয়ে মোট ১০টি পর্যায়ে ৪৬৪ জন পুণ্যার্থী কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেন। গত ২৩ আগস্ট শেষ দলটি গ্যাংটকে ফিরে আসে। অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস হয়ে আরও ৪৭৭ জন পুণ্যার্থী এই তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

সিকিম পর্যটন দপ্তরের সিইও গিউর্মি ইউসাল জানান, রবিবার শেষ দলটি গ্যাংটকে পৌঁছলে সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তীর্থযাত্রীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কথাও জানান। একইসঙ্গে সিকিম হয়ে এই তীর্থযাত্রা আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ভারত সরকার, এসটিডিসি এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা। এই যাত্রার সফল সমাপ্তিকে সিকিমের পর্যটন শিল্পের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান লুকেন্দ্র রাসাইলি জানান, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালু হওয়ায় রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে করোনা অতিমারীর কারণে বন্ধ হয়ে যায় কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর এই তীর্থযাত্রা আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতির জটিলতার কারণেও যাত্রার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন। পরবর্তী সময়ে ভারত-চিনের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৫ সালে দুই দেশের বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ফের চালুর বিষয়ে জট কাটে। অবশেষে পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালে নাথু-লা ও লিপুলেখ—দুই রুট দিয়েই তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু হয়।

কৈলাস যাত্রায় প্রতিটি দলের সঙ্গে চিকিৎসক, রাঁধুনি এবং যোগাযোগ আধিকারিকদের রাখা হয়েছিল। উচ্চতাজনিত সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যাত্রা শুরুর আগে পুণ্যার্থীদের সিকিমের বিভিন্ন উচ্চস্থানে চার থেকে পাঁচ দিন থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে অভিযোজন বা অ্যাক্লিমাটাইজেশন বলা হয়। ভারত থেকে ঐতিহ্যগতভাবে দুটি রুটে কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর যাত্রা হয়ে থাকে। একটি সিকিমের নাথু-লা হয়ে এবং অন্যটি উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস দিয়ে। তীর্থযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সিকিম সরকার নাথু-লা রুটে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে। পাঁচ বছর পর যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়ায় এবার পুণ্যার্থীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ দেখা গিয়েছে, তেমনই সিকিমের পর্যটন ক্ষেত্রেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। 

You might also like!