
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও ধরনের দ্বিচারিতা মেনে নেওয়া হবে না—SCO সম্মেলনের মঞ্চে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফের উপস্থিতিতেই আরও একবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার কিরঘিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সন্ত্রাস দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সন্ত্রাসে অর্থের জোগান বন্ধ করা, জঙ্গি নিয়োগে রাশ টানা, মৌলবাদী প্রচার রুখে দেওয়া এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করার উপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
SCO-র বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও উপস্থিত ছিলেন। ফলে তাঁর সামনে মোদীর বক্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরাসরি কোনও দেশের নাম নেননি প্রধানমন্ত্রী, তাঁর বক্তব্যে সেই দেশগুলির দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যারা সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয় বা জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের এক সুরে কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতার জায়গা থাকতে পারে না। সন্ত্রাসের গোটা বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করতে হবে—তার অর্থের জোগান, জঙ্গি নিয়োগ, মৌলবাদে উস্কানি এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুকেই টার্গেট করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে দেশগুলি সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং জঙ্গিদের আশ্রয় ও সমর্থন দেয়, তাদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের জন্যই কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।’
সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা যুদ্ধ ও সংঘাত নিয়েও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কোনও যুদ্ধের মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাতের অবসানে আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোতে হবে। মোদী বলেন, ‘যুদ্ধের ময়দান বা রণক্ষেত্রে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না। সমস্ত যুদ্ধ এবং সংঘাতের সমাধান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে করতে হবে।’ পশ্চিম এশিয়ার অব্যাহত অশান্তি ও সঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত আর সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব পড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলির উপর।’
SCO মঞ্চে মাদক পাচারকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান মোদী। তাঁর মতে, মাদক পাচার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় বিপদ এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুতর সমস্যা। পাক প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়ার ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত বলে জানান তিনি। আফগানিস্তানের মানুষের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় ভারত কাজ করে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা বজায় থাকবে বলে জানান মোদী। নিরাপত্তার পাশাপাশি SCO দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘বাজারগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা, বাণিজ্যের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দেওয়া জরুরি। তবে সেই যোগাযোগ প্রকল্পগুলিকে সংশ্লিষ্ট সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’
সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি শুল্ক কাঠামো সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজ়িস্টিক ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। এ দিনের বক্তব্যে তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘এক সুরে’ লড়াই, যুদ্ধের বদলে কূটনীতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য-যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয়কেই SCO মঞ্চে ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।
