
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সমবায়কেই বিকল্প অর্থনীতির অন্যতম পথ হিসেবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, সমবায় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা গেলে রাজ্যে অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন দরজা খুলবে। সোমবার মধ্যমগ্রামে মহিলা পরিচালিত একটি সমবায় সমিতির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সমবায় আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার বার্তা দেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, গত ১৫ বছরে রাজ্যে সমবায় আন্দোলন যথেষ্ট অবহেলার শিকার হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বোঝালেও বুঝতেন না। কেউ কিছু বলতে গেলেই বলতেন, আমি তো সব জানি। আর আমি বলি, আমি কিছু জানি, অনেক কিছুই শিখছি।”
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সমবায় আন্দোলন বৃহত্তর অর্থনৈতিক আন্দোলন। সমবায়কে আরও বাড়াতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে সমবায়কে আরও জোর দেওয়া উচিত। তাহলে কর্মসংস্থান বাড়বে। সমবায়ের উন্নতি হলে নারীর ক্ষমতায়নও হবে বলে জানান শুভেন্দু। গত ১৫ বছরে সমবায় অবহেলিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সমবায় কী জিনিস বোঝার চেষ্টা করেনি বিগত সরকার। স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক, এমনকী প্রাইমারি সমিতিতেও বহু বছর ধরে নির্বাচন হয়নি। সমবায়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার সমবায়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব পদক্ষেপ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন তিনি সমবায় সমিতির বোর্ড অফ ডিরেক্টরসকে দু’টি উপদেশ দেন। প্রথম, কো-অপারেটিভে লোন দেওয়া ও লোন আদায় করার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতা থেকে দূরে থাকতে হবে। আত্মীয়তা বাড়িতে দেখানোর পরামর্শ দেন শুভেন্দু। প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে অডিট করারও পরামর্শ দেন। শুভেন্দুর দ্বিতীয় উপদেশ, ম্যানেজমেন্ট খরচ কমাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অতিথি এলে ৩টে জিনিস দিয়ে বরণ করার দরকার নেই। একটা কোনও জিনিস দিয়ে বরণ করবেন। হয় একটা ফুলের স্টিক, নয় একটি উত্তরীয়, নয় মাতৃমূর্তি। এতগুলো উপহার দেওয়ার দরকার নেই। ম্যানেজমেন্ট কস্ট তো আপনার পকেট দিয়েই যাচ্ছে।”
