Entertainment

59 minutes ago

Kharaj Mukherjee : ‘বৃষ্টির মধ্যে ৫ ঘণ্টা জঙ্গলে বসে ছিলাম’! জলরোষে নেপাল থেকে আতঙ্কের কথা জানালেন খরাজ

Actor Kharaj Mukherjee Stuck in Nepal
Actor Kharaj Mukherjee Stuck in Nepal

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত নেপাল। তিব্বতের দিক থেকে নেমে আসা হড়পা বানে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। প্রবল জলস্রোতে মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গিয়েছে একাধিক জনপদ। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই বিপর্যয়ের ছবি ও ভিডিয়োয় স্পষ্ট ধরা পড়ছে ধ্বংসের ভয়াবহতা। এই পরিস্থিতিতেই নেপালে শুটিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নেপালেই আটকে রয়েছেন তিনি। বুধবার বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছিলেন খরাজপুত্র বিহু মুখোপাধ্যায়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে নেপাল থেকেই ফোনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন খোদ অভিনেতা। সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি কেমন এবং কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন খরাজ। 

নেপাল থেকে অভিনেতা জানান, “কী প্রচণ্ড ভুগছি। গতকাল জঙ্গলে একটা সিকোয়েন্সের শুটিং করছিলাম। সেখানে বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৫ ঘণ্টা টানা জঙ্গলে বসে থাকতে হয়। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ছিলাম। ওর মধ্যেই শুটের ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু অনেকক্ষণ শুটিং ব্যাহত হয়। একবার নয় বহুবারই এমন হয়েছে। আজকে কাঠমান্ডু থেকে টিকিট করা ছিল। কিন্তু সেই টিকিকের টাকা আবার ফেরতযোগ্য নয়। সেইজন্য আমি টিমকে বলেছিলাম ২৬ তারিখ যেন তাড়াতাড়ি শুটিংটা সেরে ফেলা যায়। তো আমাদের শুটিং যখন শেষ হল, ফ্লাইটের টিকিট সব বুক হয়ে গিয়েছিল। এদিকে রাস্তাও বন্ধ। ফলত কাঠমান্ডু যাওয়ার কোনও উপায় হল না।” তাহলে কীভাবে ফিরবেন? এপ্রসঙ্গে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানালেন, অনেক খোঁজখবর করে জানতে পারলাম এখান থেকে সোজাসুজি গোরক্ষপুর যাওয়া সম্ভব। ওই রাস্তাটা খোলা। তো ওই রাস্তা ধরেই আজ আমরা বেরিয়ে পড়ব। আগামীকাল বিমানে কলকাতা ফিরব, এখনও পর্যন্ত সেরকমই পরিকল্পনা।” বুধবার খরাজপুত্র বিহু জানিয়েছিলেন, “বাবা-মা দু’জনেই পোখরায় রয়েছেন। অন্যান্য কলাকুশলীরাও সেখানেই রয়েছেন। সকলেই ঠিক আছেন।”

সূত্রের খবর, এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী জেলায় ওই হড়পা বান নামে। আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা। সেখানে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ভেসে গিয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতুও। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী। গ্রামের পর গ্রাম চলে গিয়েছে জলের নিচে। বন্যার জল ক্রমশ নিচের দিকে নেমে আসায় নেপালের সীমান্তবর্তী রাজ্য বিহার এবং উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্য়া আরও বাড়ার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। 

You might also like!