
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাখিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসবকে কেন্দ্র করে করা এক বিজ্ঞাপন ঘিরে তুমুল বিতর্কে জড়ালেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতী শ্যানন। জনপ্রিয় এক গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতীর পোশাক ও উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানান সমাজমাধ্যমের একাংশ। বিজ্ঞাপনের প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় সমালোচনা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে শেষপর্যন্ত বিজ্ঞাপনী ভিডিওটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
বিজ্ঞাপনটিতে কৃতীকে দুধসাদা ব্রালেট-ধাঁচের পোশাকে দেখা যায়। রাখির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বিজ্ঞাপনে এমন পোশাক কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটাগরিকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের উপস্থাপনা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে পোষ্য সারমেয়কে রাখি পরানোর দৃশ্য নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। যদিও সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে কৃতী স্পষ্ট করেন, কোনও নারীর সংস্কৃতিবোধকে তাঁর পোশাকের মাধ্যমে বিচার করা উচিত নয়।
কৃতীর বক্তব্যকে ঘিরে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই আলোচনায় আসে গায়ক সোনু নিগমের নাম। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সোনু নিগম নাকি বলেছেন, “হিন্দুরা সহনশীল, তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।” সেই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই সমাজমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন গায়ক। তবে বিতর্কের মধ্যেই সেই বক্তব্যের সত্যতা অস্বীকার করেন সোনু নিগম। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি জানান, “আমি মোটেই এরকম কোনও মন্তব্য করিনি। আপনারা প্লিজ জেগে উঠুন!” পরে জানা যায়, সোনুর নামে তৈরি একটি ভুয়ো এক্স হ্যান্ডেল থেকেই ওই মন্তব্য ছড়ানোর সূত্রপাত বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে যে মন্তব্য নিয়ে গায়ককে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, সেটি তাঁর নিজের নয় বলেই স্পষ্ট হয়।

এদিকে বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কৃতী নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, “ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নারীদের মনে থাকে। পোশাকের নেকলাইন কিংবা বিভাজিকায় নয়। রাখিবন্ধন উৎসব একটা আবেগ। সুরক্ষার এক বন্ধন। আমি ও আমার বোন একে-অপরকে রাখি পরাই। আমরা বিশ্বাস করি, ভাই থাকলে যেমন সুরক্ষা দিতে পারত, আমরাও পরস্পরকে ঠিক তেমনই সুরক্ষিত রাখতে পারব। তাছাড়া, নারীরা কী পরবেন- সে বিষয়ে তাঁদের নিদান দেওয়া সমাজ কবে বন্ধ করবে? সময়ের সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে, অথচ আজও একজন নারীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে শুধু তাঁর পোশাক দিয়েই বিচার করা হয়।” কৃতীর বক্তব্যকে সমর্থন করে নারীর পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধীও। তাঁর বক্তব্য, “একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন এবং কোথায় যাবেন?– সেসব একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। নারীদের স্বাধীনতায় নাকগলানো বন্ধ করুন।” এদিকে বিতর্ক আর না বাড়িয়ে বুধবার সংশ্লিষ্ট গয়না সংস্থার তরফে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংস্থার দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখাই তাঁদের উদ্দেশ্য। ফলে কৃতীর রাখি-বিজ্ঞাপনকে ঘিরে বিতর্ক আপাতত থামলেও, পোশাক, সংস্কৃতি ও নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা।
