kolkata

1 hour ago

CM Suvendu Adhikari: যাদবপুর থেকে অন্নপূর্ণা, চিনির দাম থেকে মেট্রো! একগুচ্ছ বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

CM Suvendu Adhikari
CM Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  গত কয়েক দিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে অশান্তি এবং প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কিষেনজি রেড স্যালুট’ চলবে না বলে কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর দাবি, ঘটনার বিষয়ে সমস্ত নথি রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আগামী ২৮ আগস্ট রাখির দিন ‘দেশপ্রেম দিবস’ পালনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।” তবে আর্টস হস্টেলের কিছু ছবি-ভিডিয়ো তাঁদের হাতে এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই ছবিতে কি আছে তা স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি তিনি। তবে এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”বেশ কয়েকজন ছাত্র সিএমওতে আর্টস হস্টেলের বেশ কিছু ভিডিও পাঠিয়েছেন। তা ভিসিকে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষা করুন, এই সব মেনে নেওয়া হবে না।” কার্যত এই ইস্যুতে রাজ্য সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি যাদবপুর ইস্যুতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।” শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, দেশই সবার উপরে। আর সেই নীতি নিয়েই সরকার চলবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান। 

ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসবে চিনির দাম। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বেআইনিভাবে চাল ও চিনি মজুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “লিকেজ কোথায় আছে পেয়ে গিয়েছি। আমরা করে দেব। শক্তিশালী সরকার হয়েছে। এখানে সুযোগ হবে না।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর মাসেই পালিত হবে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সপ্তাহ পালন করা হবে। রাজ্যে নতুন করে টাস্ক ফোর্সকে অ্যাক্টিভ করা হয়েছে। ৭২টি সাব ডিভিশন স্তরে ও ৩৫টি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি স্তরে অ্যাক্টিভ রয়েছে এই টাস্ক ফোর্স। সাব ডিভিশন স্তরে মহকুমাশাসক ও পুলিশ কমিশনারেট স্তরে ডিসিকে টাস্ক ফোর্সের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কমিটিতে থাকবেন আরও একাধিক সরকারি আধিকারিক। শুভেন্দু আরও জানান, সোমবার ফুড ইন্সপেক্টরদের নিয়ে মিটিং হয়েছে। ভেজাল রোধের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

সোমবার ফেসবুক লাইভে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আগে কোনও শর্তের কথা বলেনি বিজেপি। কিন্তু পরে যোগ্য-অযোগ্য ভাগ করে শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। এই নিয়ে পালটা শুভেন্দু বলেন, বিগত সরকারও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে শর্ত আরোপ করেছিল। ২৫-৬০ বছর বয়সি মহিলাদের দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সব মহিলাকে দেওয়া হয়নি। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৭২ জন যোগ্য মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। তাঁর মধ্যে ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম। অন্নপূর্ণার পোর্টালে এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনেকে অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যও আবেদন করেছেন। শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, ধর্ম-বর্ণ দেখে অন্নপূর্ণার টাকা দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামের হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৮৬ শতাংশ হিন্দু থাকেন। সেখানে ৫৪ জনকে আবাস যোজনার টাকা দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। প্রাপকদের মধ্য়ে ৫২ জনই মুসলিম। মাত্র ২ জন হিন্দু। তাই কে ধর্মের ভিত্তিতে টাকা দিত তা স্পর্ষ। শুভেন্দুর কথায়, “বাছাবাছি, আমরা ওঁরা তো উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) করতেন। আমরা করি না। উনি ধর্ম দেখে করতেন।” 

সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর হল। নবান্ন থেকে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আরও একবার জোর গলায় সেই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন  সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  জানিয়ে দিলেন, “আজ, সোমবার থেকেই গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর হল পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।” সরকারি সম্পত্তি নষ্টে ৩ গুণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে, তাও আবার সুদ-সমেত। পুলিশের উপর হামলা হলেই দ্রুত পদক্ষেপ হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  

সোমবার একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আগামী ২৭ তারিখ সিলিকন ভ্যালিতে লারসেন অ্যান্ড ট্রুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)র একটি প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। এমনকী আগামী দুর্গাপুজোর সময় আরও একটি বড় শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে হলদিয়ায়।” শুভেন্দু অধিকারীর কথা অনুযায়ী, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন একটি প্ল্যান্টের উদ্বোধন আগামী ১৪ অক্টোবর হতে পারে। ইতিমধ্যে সংস্থার অন্যতম কর্তা শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”পুজোর মরসুমের আগেই রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে এই দু’টি উদ্বোধন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।” শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে বাংলায় বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা সরকারের। পাশাপাশি নিউ টাউনের আদানিকে হাসপাতাল তৈরির ক্ষেত্রে সরকার ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে বলেও সোমবার জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আদানি গোষ্ঠীর তরফে করণ আদানি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হাসপাতাল তৈরি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত সম্মতিও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রকল্প নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গৌতম আদানি। দ্রুত কাজ শুরু করতে আগ্রহী সংস্থা। এই হাসপাতাল তৈরি ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ আদানি গোষ্ঠী করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই হাসপাতাল হবে প্রায় ২ হাজার শয্যার। যার মধ্যে ১ হাজার শয্যা আর্থিক ভাবে দুর্বল ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে রাখা হবে। বাকি ১ হাজার শয্যা বাণিজ্যিক পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হবে। সমস্ত অত্যাধুনিক পরিষেবা এই হাসপাতালে থাকবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  

রাজ্যে পালাবদলের পরই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে গতি এসেছে।  এবার দীর্ঘদিনের জট কাটতে চলেছে। অবশেষে বরানগর-বারাকপুর মেট্রো করিডরের পিঙ্ক লাইনের ছাড়পত্র মিলল। কলকাতা পুরসভা এই ছাড়পত্র দিয়েছে। সেই ছাড়পত্রের পর অভিনন্দন জানিয়েছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডেলে একটি বড় বার্তাও দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি কলকাতার উত্তর শহরতলিতে দ্রুতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এর ফলে যাতায়াতের সময় যেমন বহুলাংশে কমবে, তেমনই প্রধান সড়কগুলিতে যানজট হ্রাস পাবে। যাত্রীরা নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন পরিষেবার সুবিধা পাবেন।” প্রসঙ্গত, তৃণমূল আমল থেকে এই মেট্রোপথ সম্প্রসারণ নিয়ে জটিলতা চলছিল।

You might also like!