
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র ৫২ দিন পরই বাঙালি মেতে উঠবে শারদোৎসবে। সেই আবহে কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে প্রস্তুতিও এখন তুঙ্গে। কোথাও থিমের পরিকল্পনা চলছে, কোথাও আবার ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। প্রতি বছরের মতো এবারও শহরের পুজোগুলিতে থাকছে নানা চমক ও অভিনব ভাবনা। বাজেট বড় না হলেও অনেক পুজো উদ্যোক্তা তাঁদের সৃজনশীলতার জোরে দর্শকদের নজর কাড়েন। এবারও তেমনই এক অপেক্ষাকৃত অপরিচিত পুজো চমকে দিতে চলেছে শহরবাসীকে। তাদের এবারের থিম একেবারে রাজনৈতিক। মণ্ডপের মূল ভাবনায় থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, উত্থান এবং সাফল্যের নানা অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে।
‘নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন/বুবাইয়ের জয়যাত্রা’ – এই থিমে সেজে উঠছে রুবি মোড়ের একটি দুর্গাপুজো। জাঁকজমক নয়, বরং সনাতন রীতিনীতি মেনে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার তরফে প্রতিবছর এখানে পুজো হয়। এবার অবশ্য আলাদা ব্যাপার। প্রথমবার রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন নন্দীগ্রামের সেই দামাল ছেলে শুভেন্দু অধিকারী, এলাকাবাসীর প্রিয় ‘বুবাই’। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে এমন সোনার সময়কে ধরে রাখতে এবার হিন্দু মহাসভার দুর্গাপুজোর থিম তিনিই। রুবি মোড়ের এই পুজো মণ্ডপ সেজে উঠছে শুভেন্দুকে নিয়ে আঁকা পটচিত্র, ফ্লেক্স, ব্যানারে। সবচেয়ে বড় চমক মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষুদ্রতম মূর্তি থাকবে এখানে।
পুজোর উদ্যোক্তা তথা অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য, ‘‘আমাদের পুজোর মূল থিম এবার ‘নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন/বুবাইয়ের জয়যাত্রা’। আপনারা জানেন, আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রীর ডাক নাম বুবাই। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম, সাফল্য – সবকিছু থাকবে আমাদের এবারের পুজোয়। মণ্ডপে থাকবে তাঁকে নিয়ে আঁকা পটচিত্র, ফ্লেক্স, ব্যানার। এছাড়া তাঁর ক্ষুদ্রতম একটা মূর্তি তৈরি করব আমরা। মুগডাল বা অন্য কিছুর উপর তৈরি হবে। সেটা সাজানো থাকবে মণ্ডবে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার তরফে একটা তথ্যচিত্র বানাব, সেটা মণ্ডপে সারাক্ষণ চলবে। সবমিলিয়ে, আমাদের পুজো ঘিরে এবার থাকবেন শুধু মুখ্যমন্ত্রী।”
প্রতিমাসজ্জায় আলাদা কিছু থাকে না এই পুজোয়। সাবেকী দুর্গামূর্তিতে পুজো হয় হিন্দু মহাসভায়। এবারও তাই হবে। চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য, হিন্দু মহাসভার ঘাট থেকে মাটি তুলে দুর্গামূর্তি তৈরি হবে। সুতরাং, অপেক্ষা আর ৫২ দিনের। তারপরই কলকাতাবাসী চাক্ষুষ করবেন, দুর্গাপুজো জুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর নীরব উপস্থিতি।
