
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পরীক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে টানা ২৪ দিন ধরে আন্দোলনে বসে রয়েছেন ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়ারা। বিধানসভা ভবন অভিযানের কর্মসূচিতে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার। অন্যদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরব কংগ্রেস ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে কেন নীরব, তা নিয়েও উঠছিল প্রশ্ন। এবার অবশ্য সামনে এল অন্য তথ্য। জানা গিয়েছে, জোটসঙ্গী হেমন্ত সোরেনকে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পড়ুয়াদের আন্দোলন এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে চিঠিতে তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেই খবর।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ২৪ দিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’ লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা রবিবার সন্ধ্যায় রাঁচিতে হেমন্ত সোরেন এবং রাহুল গাঁধীর কুশপুতুল দাহ করলেন। এইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে হেমন্তের ইস্তফার দাবিতেও অনড় তাঁরা। এহেন পরিস্থিতিতে সোমবার আবারও পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন হেমন্ত। তার আগেই প্রকাশ্যে এসেছে হেমন্তকে লেখা রাহুলের চিঠি। কংগ্রেস নেতার কথায়, ‘ভারতীয় সংবিধানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ এবং কংগ্রেস প্রতিবাদে বিশ্বাস করে। সেকারণেই প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের সমস্ত আন্দোলনে আমরা সমর্থন করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে চিঠি লিখছি, অনুরোধ করছি আপনি নিজে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করুন।’
ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকার তাঁদের দাবিগুলির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করছে না। এই কারণেই এবার হেমন্ত সোরনের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এহেন পরিস্থিতিতে কংগ্রেস যথেষ্ট চাপে। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে তারা, কিন্তু একই ইস্যুতে জোটসঙ্গীর বিরুদ্ধে কেন নীরব হাতশিবির? উঠছে প্রশ্ন। যদিও ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করেছিলেন রাহুল। তাতেও কংগ্রেসকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। এবার কি নিজেদের পিঠ বাঁচাতে হেমন্তের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে কংগ্রেস? ভাঙবে ইন্ডিয়া জোট?
