
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি মেনে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার। জানানো হয়েছে, ২০১৪ সালের পর থেকে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা টিডিপিএলের মাধ্যমে নেওয়া সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বাতিল করা হবে। শুধু পরীক্ষা নয়, ওই সংস্থার মাধ্যমে হওয়া নিয়োগগুলিও বাতিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার। সরকারের এই ঘোষণার পরই চাকরিরত বহু মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কর্মজীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন অনেকে। এরই মধ্যে পরিস্থিতির চাপে এক যুবক স্ত্রীকে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
২০২৪ সালে স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষায় নির্বাচিত হওয়া প্রায় ২ হাজার চাকরিরত এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে নিয়োগ বাতিলের পর তাঁরা চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এরকমই একজন হলেন সন্দীপ। দু’মাস আগেই তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু এখন উদ্বেগে দিন কাটছে তাঁর। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সন্দীপ বলেন, “বাড়ি ফিরে আমি স্ত্রীকে জানাই, আমার চাকরি ছিল বলে তুমি আমাকে বিয়ে করেছিলে। এখন তো আর চাকরি নেই। চাইলে বিয়ে ভেঙে দিতে পারো। স্ত্রীয়ের বাবা-মাকেও একথা জানিয়ে দিয়েছি।” অন্যদিকে, করুণ অবস্থা দেওঘরের বাসিন্দা লালন পান্ডেরও। তিনি ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকশন অফিসার’। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর পরিবারে বাবা-মা ছাড়াও রয়েছে স্ত্রী ও দুই সন্তান। তিনি বলেন, “নতুন কোনও নিয়োগ পরীক্ষায় বসার বয়স আমার আর নেই। আমার ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তাঁদের পড়াশোনার কী হবে? এটি আমাদের প্রতি চরম অবিচার। সরকার আমাদের গুলি করে মেরে ফেলতে পারত।”
উল্লেখ্য, গত গত কয়েকদিনে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশ বাড়ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় রাঁচিতে হেমন্ত সোরেন এবং রাহুল গাঁধীর কুশপুতুল দাহ করেছিলেন পড়ুয়ারা। এইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে হেমন্তের ইস্তফার দাবি তোলা হয়। পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে হেমন্তকে চিঠি লেখেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। ক্রমাগত চাপের মুখে অবশেষে সোমবার রাতে পড়ুয়াদের দাবি মেনেছে সরকার।
