
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে রাজ্য সরকার। তবে প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় আন্দোলনে নেমেছেন মহিলাদের একাংশ। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট কয়েকটি যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। সোমবার ফেসবুক লাইভে সেই যোগ্যতার শর্ত নিয়েই প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় কেন এই মাপকাঠিগুলির কথা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি? পাশাপাশি, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে যাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন, তাঁদের নিজেদের এলাকায় এমন প্রাপকদের তালিকা তৈরি করে রাখারও পরামর্শ দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মা-বোনদের আত্মসম্মান, আত্মনির্ভরশীলতা এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য। যাঁরা আজকে কতিপয় মহিলাকে দিচ্ছেন, এমনকী বিজেপির লোকজন পেলেও আমার কোনও দুঃখ নেই। যে কেউ পাক। কিন্তু আপনার বলছেন, যোগ্যতা নেই। সে দিন তো যোগ্যতার কথা বলেননি। বিজেপি ঠিক করবে, কার যোগ্যতা আছে, কার যোগ্যতা নেই?’ উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টি ইস্তেহারে জানিয়ে ছিল, তারা সরকার গঠন করলে রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হবে। তাতে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতার কটাক্ষ, ‘নির্বাচনের আগে কর্মী, এজেন্সিকে টাকা দিয়ে এলাকায় গিয়ে মা-বোনেদের কাছে ফর্ম ফিলাপ করেছিল বিজেপি। তারা বলেছিল, জিতলে অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা দেবে। তখন কিন্তু শর্ত ছিল না। আমি দেখছি, আজ মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি কলকাতার ফুটপাথ বেআইনি দখলমুক্ত করার অভিযানে পার্ক স্ট্রিটে এক মহিলাকে সরে যাওয়ার জন্য ধমক দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। এ দিন তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন মায়ের অভিশাপ, বড় অভিশাপ। চমকাচ্ছেন, ধমকাচ্ছেন।’ সেই মহিলা ও তাঁর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘আমি এই পরিবারটার দায়িত্ব নিতে তৈরি। ওঁরা রাজি থাকলে আমি কোনও কর্মীর বাড়িতে ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব। বাচ্চার পড়াশোনার দায়িত্বও নেব।’
