kolkata

1 hour ago

Agnimitra Paul : ‘বুঝিয়ে বলা দরকার ছিল’, ফুটপাথে দুধ গরম বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অগ্নিমিত্রা

Agnimitra Paul
Agnimitra Paul

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  কলকাতার ফুটপাথে নাতির জন্য দুধ গরম করছিলেন এক বৃদ্ধা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তাঁকে ওই কাজ থেকে বিরত করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ফুটপাথ দখলমুক্ত করার অভিযানে গিয়ে অগ্নিমিত্রার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, দুধের শিশুর মুখের খাবার কেড়ে নেওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এই বিতর্কের মধ্যেই সোমবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অগ্নিমিত্রা পাল। সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি, ঘটনাটি নিয়ে ‘অনাবশ্যক সমালোচনা’ বন্ধ করারও আবেদন জানান তিনি।

অগ্নিমিত্রা লেখেন, “কোনও বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। সরে যেতে বলা হয়েছে। ওভাবে একটা ব্যস্ত রাস্তায় একটা বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে – শুধু ওখানে নয়, এই দৃশ্য কলকাতার অনেক জায়গাতেই দেখা যায়। একটা দুর্ঘটনা যখন-তখন হয়ে যেতে পারে। কে দায় নেবে তার? যারা কাল থেকে মানবিকতার কথা বলছেন, তাঁরা? যে সরকার বছরের পর বছর ধরে ফুটপাথে মানুষদের বসিয়েছেন, কর্মসংস্থান করেননি, শুধু তোলাবাজি, ঘুষ আর যত রকমের দুর্নীতি হয়, সেগুলো করে গিয়েছেন গত ১৫ বছর ধরে – তাঁরা আজ জনদরদী?” বলে রাখা ভালো, এই ‘দুধ গরম’ বিতর্কের মাঝে রবিবার ওই ফুটপাথবাসী বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করেন ‘কালীঘাট তৃণমূলপন্থী’ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সেখানে দাঁড়িয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের তুলোধোনাও করেন তিনি। 

এছাড়াও অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “ফুটপাথ গরিব বা বড়লোককে আলাদা করে চেনে না। ফুটপাথে যারা হাঁটছেন, তাঁরা সবাই মানুষ। মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায় – ফুটপাথকে হাঁটাচলার উপযোগী করে তুলতে হবে। ফুটপাথ মানুষের হাঁটাচলার জন্য, বসবাস করার জন্য নয়।” মন্ত্রীর কথায়, “আমি জানি, আমাদের সরকার অনেক বড় ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে, তাতে বিরোধীদের সমস্যা হওয়ারই কথা। ফুটপাথ থেকে হকার সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, অবৈধ পার্কিং সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, যারা রীতিমতো ফুটপাথকে বাসস্থান বানিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা। আপনাদের সুবিধা বা অসুবিধা দেখে তো সরকার কাজ করবে না।”

আগামিদিন রাজ্যকে শিল্পবান্ধব করে তুলতে গেলে ফুটপাথ, রাস্তাঘাট ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেই মত মন্ত্রীর। তাঁর কথায়, “আজ বিনিয়োগের কথা হচ্ছে, নতুন শিল্পপতিদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, শিল্প আনার চেষ্টা চলছে। যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁরা এসে যদি দেখেন রাস্তাঘাট যানজটে ভরা, রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, শহরের এই পরিবেশ – তাঁরা কি আসবেন? রাস্তা থেকে ড্রেন, সবকিছু সংস্কারের কাজ চলছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত রাস্তা ঠিক করা হবে। ১৫ বছরে বাংলার যে অবস্থা হয়েছে, তা কোনওভাবেই ১০০ দিনে ঠিক করা সম্ভব নয়। এমনটা নয় যে কোনও মন্ত্রবলে সবকিছু হঠাৎ করে ঠিক হয়ে যাবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা যা প্রতিশ্রুতি আমরা করেছি, তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের এবং তা আমরা করব। আশা করি, সাধারণ মানুষ আমার এবং আমাদের সরকারের পাশে থাকবেন।”


You might also like!