
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাতের গভীর ঘুমে তখন আচ্ছন্ন হোটেলের আবাসিকরা। আচমকাই আগুনের আতঙ্কে ঘুম ভাঙে তাঁদের। ঘর থেকে বেরিয়ে পরিস্থিতি দেখে কার্যত মৃত্যুভয় তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ছুটে যান এমার্জেন্সি গেটের দিকে। কিন্তু সেখানে গিয়ে মেলে আরও বড় বিপত্তি। অভিযোগ, এত বড় অগ্নিকাণ্ডের সময়ও আপদকালীন দরজা বন্ধ ছিল। ফলে বাধ্য হয়ে রিসেপশন দিয়ে বাইরে বেরনোর চেষ্টা করেন আবাসিকদের একাংশ। এরই মধ্যে আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় ৭ জনের। আহতও হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আবাসিকদের বয়ানে সামনে আসা এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও আবাসিকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাদের তরফে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে।
‘বিদেশিনী’ নামে ওই হোটেলটি তারাপীঠ থানার কাছে অবস্থিত। শ্রাবণের শেষ সোমবার বলে হোটেলে পর্যটকের সংখ্যা ছিল যথেষ্ট। আবাসিকদের দাবি, এত বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও ফায়ার অ্যালার্ম বাজতে শোনা যায়নি। তার উপর আবার ফাইবারের ফলস সিলিং থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিমেষে যেন জতুগৃহের রূপ নেয় হোটেলটি। ধোঁয়া, আতঙ্ক সব মিলিয়ে আবাসিকরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বারান্দার পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। তাতে জখমও হন বেশ কয়েকজন।
মালিকের ছেলে কল্যাণ পাল হোটেলটির দেখভালের দায়িত্বে। তাঁর দাবি, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ এসির এমসিবিতে শর্ট সার্কিট হয়। পুড়ে গিয়ে আগুন জ্বলতে শুরু করে। নিরাপত্তারক্ষীরা দেখতে পান। সকলকে সতর্ক করেন। প্রাথমিকভাবে হোটেলে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি পুলিশ ও দমকলকে খবর দেওয়া হয়। কল্যাণের দাবি, এমার্জেন্সি গেট বন্ধ ছিল না। তিনি জানান, হোটেলের পিছন দিকে এমার্জেন্সি এক্সিট এবং সিঁড়ি ছিল, তা নাকি বহু পর্যটক জানতেনই না। সে কারণে রিসেপশনের সামনে থাকা দরজা দিয়ে বেরতে যান অনেকে। তার ফলে আগুনে ঝলসে যান সাতজন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে প্রত্যেক আবাসিককে হোটেল থেকে বের করে নেওয়া হয়। হোটেল মালিকের ছেলেকে আটক করা হয়েছে। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
