
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতেই পালিত হয় রাখি বন্ধন। ভাই-বোনের ভালোবাসা, স্নেহ ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের প্রতীক এই উৎসব। এই দিনে বোনেরা ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে তাঁর সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করেন। পালটা ভাইয়েরাও বোনকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে রাখি বাঁধার ক্ষেত্রে শুধু শুভক্ষণ দেখাই নয়, অনেক পরিবার পঞ্জিকা মেনে ভদ্রকালও বিবেচনা করে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভদ্রকাল চলাকালীন রাখি বাঁধার মতো শুভ কাজ এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। কিন্তু এই ভদ্রকাল আসলে কী? রাখি বন্ধনের সঙ্গে এর সম্পর্কই বা কোথায়? প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এর নেপথ্যে রয়েছে একটি বিশেষ পৌরাণিক কাহিনি।
∆ ভদ্রকাল কী?
হিন্দু পঞ্জিকায় ভদ্র-র সঙ্গে যুক্ত করা হয় বিষ্টি করণ-কে। করণ হল পঞ্জিকায় তিথির একটি বিশেষ বিভাজন। যখন বিষ্টি করণ থাকে, সেই সময়কালকেই প্রচলিতভাবে ভদ্রকাল বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভদ্রকাল শুভ কাজের জন্য অনুকূল নয়। তাই শ্রাবণ পূর্ণিমার সঙ্গে ভদ্রকাল মিলে গেলে অনেক পরিবার রাখি বন্ধনের আচার শুরু করার আগে ভদ্রকাল শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে।
∆ পুরাণ অনুযায়ী ভদ্র কে?
প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ভদ্র ছিলেন সূর্যদেব ও ছায়ার কন্যা এবং শনিদেবের বোন। কাহিনিতে ভদ্রকে অত্যন্ত উগ্র ও আক্রমণাত্মক স্বভাবের বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়, তিনি যজ্ঞ, হোম, প্রার্থনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও শুভ কাজে বাধা সৃষ্টি করতেন। ভদ্রের এই আচরণ নিয়ে চিন্তিত হয়ে সূর্যদেব নাকি সমস্যার সমাধানের জন্য ব্রহ্মার কাছে যান।
∆ কীভাবে পঞ্জিকায় ভদ্রের স্থান হল?
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ভদ্রকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি সবসময় শুভ কাজের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করতে না পারেন। পরবর্তীকালে পঞ্জিকায় ভদ্রের উপস্থিতিকে বিষ্টি করণ-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। প্রচলিত জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ভদ্র কখনও স্বর্গে, কখনও পৃথিবীতে এবং কখনও পাতালে অবস্থান করেন বলেও বিশ্বাস করা হয়। ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী, ভদ্র যখন পৃথিবীতে অবস্থান করেন, তখন শুভ কাজ এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

∆ ভদ্রকালে রাখি বাঁধা হয় না কেন?
ভদ্রকালকে ঐতিহ্যগতভাবে শুভ কাজের জন্য অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সেই কারণেই এই সময়ে রাখি বন্ধনের মতো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকেন অনেকে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভদ্রকালে শুভ অনুষ্ঠান করলে কাজে বাধা বা অশুভ ফল আসতে পারে। তাই বহু পরিবার ভদ্রকাল শেষ হওয়ার পরেই রাখি বাঁধার রীতি পালন করে। তবে এগুলি মূলত ধর্মীয় ও জ্যোতিষশাস্ত্রভিত্তিক বিশ্বাস; এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তা সত্ত্বেও বহু পরিবারে রাখি বন্ধনের ঐতিহ্যের সঙ্গে ভদ্রকাল দেখার রীতি এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
∆ রাখি বন্ধন ২০২৬ কবে?
২০২৬ সালে রাখি বন্ধন পালিত হবে শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৮ অগাস্ট সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে। তবে পঞ্জিকার সময়স্থানভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই রাখি বাঁধার আগে নিজের এলাকার স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি ও শুভ মুহূর্ত দেখে নেওয়া ভালো।
∆ রাখি বন্ধন ২০২৬-এ কি ভদ্রকাল থাকবে?
পঞ্জিকার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রাখি বন্ধনের প্রাসঙ্গিক সময়ে ভদ্রকাল থাকবে না। ফলে ভদ্রকাল শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করেই রাখি বন্ধনের আচার পালন করা যেতে পারে।
তবে যাঁরা মুহূর্ত বা পঞ্জিকা মেনে রাখি বাঁধেন, তাঁরা নিজেদের এলাকার রাখি বন্ধন ২০২৬-এর শুভ মুহূর্ত দেখে নেওয়াই ভালো। কারণ পঞ্জিকার সময় নির্ধারণে স্থান, স্থানীয় সূর্যোদয় এবং সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।
