
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শ্রাবণ মাসে ভগবান শিবের আরাধনায় বহু ভক্ত উপোস বা ব্রত পালন করেন। ধর্মীয় নিয়ম মেনে সারাদিন নিরামিষ ও সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। অনেকের ধারণা, উপোস করলে শরীর যেমন বিশ্রাম পায়, তেমনই ওজনও কিছুটা কমে। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই দেখেন, উপোসের পর ওজন কমার বদলে বরং বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ উপোসের সময় ভুল খাবার বেছে নেওয়া। অনেকেই ভাত বা রুটি না খেলেও তার পরিবর্তে লুচি, সাবুদানার ভাজা, আলুর পদ, ঘন দুধের লস্যি, মিষ্টি দই কিংবা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খেয়ে থাকেন। এসব খাবারে কার্বোহাইড্রেট, চিনি ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমতে পারে। এছাড়া সারাদিন দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এতে হজমের সমস্যার পাশাপাশি পেটফাঁপা, ক্লান্তি এবং ঝিমুনির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
∆ উপোস করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কী কী মাথায় রাখবেন?
১) উপোসের খাবার খেলেও পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখুন।
২) ডুবো তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে বেক করা, রোস্ট করা, ভাপানো বা এয়ার-ফ্রাই করা খাবার বেছে নিন।
৩) উপবাস ভঙ্গের সময় পেট ভরাতে আগে প্রোটিন কিছু খেয়ে নিন, তার পর অন্য খাবার খান।
৪) বাদাম ও বিভিন্ন বীজের মাধ্যমে পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ডায়েটে রাখুন। পেট ভরা থাকবে, ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছেও কমে যাবে।
৫) শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সারা দিন অল্প অল্প করে জল খেতে থাকুন।
৬) উপোসের দিনে শুয়ে-বসে না থেকে হালকা হাঁটাচলা, যোগব্যায়াম করতে পারেন। এতে ক্লান্তি দূর হবে, শরীর চাঙ্গা থাকবে। সব মিলিয়ে ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
∆ কী খাবেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, উপোসের পরে ডুবো তেলে ভাজা স্ন্যাকসের বদলে অল্প ঘিয়ে ভাজা মাখানা, শ্যামা চালের খিচুড়ি, গ্রিল করা বা হালকা আঁচে ভাজা পনির, শসা-টম্যাটো-চিনাবাদামের স্যালাড, টক দই এবং পেয়ারা বা আপেলের মতো তাজা ফল খাওয়া সবচেয়ে ভাল। ভাজা খাবারের তুলনায় এ সব খাবারে আঁশ বা ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে, এগুলি ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে।
