
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শ্রাবণ মাস এলেই ভক্তদের মধ্যে বেড়ে যায় মহাদেবের আরাধনা। গোটা মাসজুড়ে সোমবারের ব্রত, শিব মন্দিরে পুজো এবং শিবলিঙ্গে জল ও দুধ দিয়ে অভিষেকের রীতি পালন করেন অসংখ্য ভক্ত। তবে বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সহজলভ্য হওয়ায় প্যাকেটজাত দুধ কিনে শিবলিঙ্গে নিবেদন করেন। কিন্তু শাস্ত্রের দৃষ্টিতে এই প্রথা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।
হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, দেবতার পূজায় ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক, নির্মল ও সাত্ত্বিক হওয়া উচিত। সেই কারণেই শিবের অভিষেকে ব্যবহৃত দুধও বিশুদ্ধ ও তাজা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত দুধ বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণের মধ্য দিয়ে যায়। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য তা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়। এই কারণে অনেকেই মনে করেন, এর স্বাভাবিক গুণাগুণ আগের মতো থাকে না। তাই শাস্ত্রীয় রীতিতে শিবপুজোর জন্য দেশি গরুর টাটকা ও খাঁটি কাঁচা দুধকেই অধিক উপযুক্ত বলা হয়েছে।
∆ গরুর দুধ না থাকলে কী করবেন?
যদি খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তবে কী করণীয়? শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, সে ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বা সতর্কতা মেনে প্যাকেটজাত দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
* প্যাকেটজাত দুধ সরাসরি শিবলিঙ্গে ঢালবেন না। প্রথমে তা ফুটিয়ে নিন।
* ফোটানো দুধ সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। উষ্ণ দুধ কখনওই শিবলিঙ্গে অর্পণ করবেন না।
* দুধ যেন বাসি বা কেটে না যায় সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
দেবদেবীদের মধ্যে মহাদেবকে প্রসন্ন করা সবচেয়ে সহজ। তিনি ভোলানাথ, সামান্য এক ঘটি গঙ্গা জলেই তুষ্ট হন। তাই কৃত্রিম সামগ্রী দিয়ে পুজো না করে, শুদ্ধ মনে আরাধনা করাই শ্রেয়। উপচারের জাঁকজমক অপেক্ষা নিয়মের সূচিতা ও অন্তরের শ্রদ্ধাই ভোলানাথের কৃপালাভের মূল চাবিকাঠি।
