
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দলের অন্দরের কোন্দল ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের জন্য। প্রায় প্রতিদিনই দলেরই একাংশের নেতাদের নিশানায় পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছেন তাঁরা। এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মালদহে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে ফের সরব হলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই থেকে পদ বণ্টন— সব ক্ষেত্রেই টাকার প্রভাব ছিল। টাকা থাকলেই দলের পদ বা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ মিলেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার চাঁচলে ২১ জুলাই শহিদ দিবসের প্রস্তুতি বৈঠকে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যাঁরা জেলায় প্রার্থীদের টিকিট দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা টিকিট বিক্রি করেছিলেন। মালদহ জেলার বাচ্চারা পর্যন্ত জানে। প্রচুর দলীয় কর্মী, যাঁদের টাকা দিয়ে টিকিট কেনার ক্ষমতা ছিল না, বা এই কেনাবেচা মানসিকতার বিপক্ষে ছিলেন, তাঁরা ২৩-এর পরে দলে রইলেন ঠিকই, কিন্তু মনটা আর থাকল না।” কার অঙ্গুলিহেলনে এসব ঘটেছিল? সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কের বক্তব্য, ক্যামাক স্ট্রিটের সঙ্গে জেলার নেতাদের যোগসাজশে এমন ‘দুর্নীতি’ হয়েছিল। তেইশের পঞ্চায়েত ভোটে টাকার খেলা চলেছে বলে রীতিমতো বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর।
এর আগে দলের বেআইনি অর্থ সুদূর কেম্যান দ্বীপে পাচার হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এর যথাযথ তদন্তের দাবিতে সরব হন। এবার পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিক্রি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগেরও তদন্ত চাইলেন চাঁচলের বিধায়ক। তিনি জানিয়েছেন, ২১ জুলাই শহিদ তর্পণ কর্মসূচি মিটে গেলেই দলের অন্দরে এনিয়ে আলোচনা করে তদন্ত কমিটি গঠনের আর্জি জানাবেন। পরবর্তী সময়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বিধায়ক। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ‘যোগ্য’ প্রার্থী বাছতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নবজোয়ার কর্মসূচি করেছিলেন। জেলায় জেলায় ঘুরে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রার্থীতালিকা করেছিলেন তিনি। তাতেই সিলমোহর দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিষেকের সেই বাছাই করার প্রার্থীদের অনেকেই মোটা টাকার বিনিময়ে টিকিট পেয়েছিলেন।
