
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:দলত্যাগী সাংসদদের পদ বাতিলের দাবিতে এবার আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল। আগামী ১০ দিনের মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না করলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দলত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা পড়লেও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে অভিযোগ। তাই আর অপেক্ষা না করে আইনি পথে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে কালীঘাট। সূত্রের খবর, এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিকল্পনাও ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত।
আসলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। বিধানসভায় তো বটেই, লোকসভাতেও তৃণমূলের নাম-প্রতীকে নির্বাচিত ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এনডিএ-তে যোগ দিয়ে বিজেপি সরকারকে সমর্থন করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকে সদলবল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ওই ২০ জনের সাংসদ পদ খারিজ করার দাবিতে আলাদা আলাদা করে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ২০টি আবেদন জমা করেছেন অভিষেকরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্পিকার ওই আর্জিগুলি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি। আবার দল হিসাবে এনসিপিআইকেও স্বীকৃতি দেননি। এই পরিস্থিতিতে স্পিকারের উপর চাপ বাড়ানোর পন্থা নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবারই অভিষেকের নেতৃত্বে লোকসভা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদরা। তাঁদের দাবি ছিল প্রধানত দু’টি। এক, দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি। দুই, কেন লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের আসন পিছনের সারিতে করে দেওয়া হল। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর সংসদ চত্বরে অভিষেক বলেন, “আমরা অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছি গত মাসের ২২-২৩ তারিখ নাগাদ। তিন সপ্তাহ কেটে গেল। আমরা তাহলে আদালতে যেতে পারি।”অতীতে সুপ্রিম কোর্টই দলত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগের সুরাহার জন্য স্পিকারকে ৩ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সেই সময়সীমায় এখনও অনেকটা বাকি। তবে অভিষেকরা ততদিন অপেক্ষা করতে রাজি নন। সূত্রের খবর, কালীঘাট তৃণমূল আর এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন অপেক্ষা করবে। এর মধ্যে এনসিপিআই নিয়ে স্পিকার যদি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারেন তাহলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
