দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পেটখারাপ, বদহজম, গ্যাস-অম্বল কিংবা বুকজ্বালা—এই সমস্যাগুলি নতুন নয়। কিন্তু বর্ষা এলেই যেন পেটের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। আজ কিছুটা স্বস্তি মিললেও পরের দিনই আবার শুরু হচ্ছে অস্বস্তি। পেট ফেঁপে থাকা, খিদে কমে যাওয়া কিংবা খাবার হজমে সমস্যা—সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা। এর পিছনে যেমন বর্ষাকালের আবহাওয়া কিছুটা দায়ী, তেমনই দায়ী অসতর্ক খাওয়াদাওয়াও।
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাবার ও পানীয় থেকেও সহজে পেটে সংক্রমণ বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে তার অর্থ এই নয় যে প্রতিবারই ডায়রিয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেবে। অনেক সময় হালকা পেটের সমস্যা দিনের পর দিন চলতে থাকলেও তা শরীরকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বর্ষাকালে পেটের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে হলে খাবারের বিষয়ে বাড়তি সতর্ক হওয়া জরুরি।
∆ কী কী খাবার বর্ষায় এড়িয়ে চলবেন?
১। সম্পূর্ণ রান্না না করা মাংস— মার্কিন সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানাচ্ছে, মুরগির মাংস এবং রেড মিট যদি সম্পূর্ণ রান্না না করা হয়, তবে তা থেকে সালমোনেলা, ই.কোলাই-সহ আরও অনেক ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া থেকে যায়। গ্রিল করা বা তন্দুরে সেঁকা মাংসের টুকরোয় অনেক সময়েই ভিতরের অংশ সম্পূর্ণ রান্না হয় না। কিন্তু মাংস যদি কড়াইয়ে তেল দিয়ে কষিয়ে বা জল দিয়ে ফুটিয়ে রান্না করা হয়, তবে সেই ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষায় যেহেতু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি তাই ওই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।
২। সম্পূর্ণ রান্না না হওয়া ডিম— অনেকেই অমলেটে সামান্য কাঁচা ভাব রেখে দিতে পছন্দ করেন। অনেকে ডিম হাফ বয়েল বা অর্ধেক সেদ্ধ করে খান। পোচ খেলেও কাঁচা ভাব থেকে যায় কুসুমে। বর্ষায় তা না করে সম্পূর্ণ ভাবে রান্না করা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গোয়ানিবাসী পুষ্টিবিদ লিউক কুটিনহো। তিনি বলছেন, অনেকেই বাড়িতে কাঁচা ডিম দিয়ে মেয়োনিজ় বানান। তাই সম্পূর্ণ রান্না না হওয়া ডিম থেকেও বর্ষায় পেটের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৩। সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক— সামুদ্রিক মাছ বা খোলস আছে এমন জলজ প্রাণী, যেমন চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক, স্কুইডের মতো খাবার অবশ্যই উপাদেয়। কিন্তু বর্ষায় তা খেলে রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ, বর্ষাকাল হল মাছেদের প্রজননের সময়। এই সময়ে মাছেদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং বিষাক্ত পদার্থ থাকে অনেক বেশি। তাই সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। বর্ষায় কাঁচামাছ দিয়ে তৈরি খাবার যেমন, ঝিনুকের মাংসের পদ, সুশি ইত্যাদি এড়িয়ে চলাই ভাল।
৪। পাস্তুরাইজ়ড নয় এমন দুধ এবং চিজ়— পাস্তুরাইজ়ড না করা দুধ বা তা থেকে তৈরি খাবারে লিস্টেরিয়া নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। বর্ষায় প্রক্রিয়াকরণ না করা নরম চিজ় থেকেও পেটের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৫। দীর্ঘক্ষণ আগে রান্না করা ভাত বা পাস্তা— রান্না করা ভাত, নুড্ল বা পাস্তা যদি দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা হয়, তবে বর্ষায় তাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রভূত বেশি। সেই খাবারই পরে ফ্রিজে তোলা হয়। তাই বর্ষায় ফ্রিজে রাখা খাবার ভাল ভাবে গরম করে তবেই খাওয়া উচিত। নয়তো ফেলে দেওয়াই শ্রেয়।
৬। কাঁচা সব্জি এবং ফল— অনেকেই স্যালাডে কাঁচাপাতা বা সব্জি ব্যবহার করেন। বর্ষাকালে তেমন না করাই ভাল। ভাল ভাবে না ধুলে কাঁচা আনাজে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। একই ভাবে বাইরে কাটা ফল বা বাড়িতে ভাল ভাবে না ধুয়ে ফল খেলেও তা থেকে সমস্যা হতে পারে।
এই সময়ে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলতে পারলেই পেটের সংক্রমণ, বদহজম কিংবা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বর্ষায় সুস্থ থাকতে তাই খাবারের তালিকায় একটু সচেতন পরিবর্তন আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
