West Bengal

36 minutes ago

Suvendu Adhikari : নেতাজির নামে নতুন বিধায়ক সেবা কেন্দ্র, রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Chief Minister Suvendu Adhikari's
Chief Minister Suvendu Adhikari's

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। চিকিৎসা খরচ বাবদ তাঁদের মাসিক ভাতা ৪ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন প্রাক্তন বিধায়করা চিকিৎসা খরচ হিসেবে মাসে ৬ হাজার টাকা পেতেন। এবার থেকে সেই ভাতা বেড়ে হবে ১০ হাজার টাকা। আগামী আগস্ট মাস থেকেই নতুন হারে ভাতা কার্যকর হবে। পাশাপাশি, অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও বিধানসভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত অসমের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়ার প্রস্তাবও রাখেন তিনি।পুরের ধনকুবের উদ্যোগপতি সারাংগ লাখানিকে বিয়ে করেন রেবতি। জমকালো অনুষ্ঠানে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন মোদি। অমিত শাহ যুগলের সঙ্গে ছবি তোলেন। বিয়েতে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। এক্স হ্যান্ডেলে তাঁর পোস্ট করা একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কেও। কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর সিং হুদাও রেবতির বিয়ের ভিডিও পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। এছাড়াও আমন্ত্রিত তালিকায় ছিলেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত, একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমুখ।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাক্তন বিধায়কদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেয়নি বিগত সরকার। নিষ্ঠা, সততার সঙ্গে অনেক বিধায়ক নিজেদের কার্যকাল শেষ করেছেন। মহিষাদলের বিধায়ক দীনবন্ধু বাবু এখনও বাজার করেন। সাইকেলে ঘুরে বেড়ান। সুভাষ নস্কর এখনও রেলওয়ে স্টেশনে বসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পাশের বাজারে বাজার করেন। এই অবস্থা দেখে প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পরের সেশনে আইন আনতে হবে। কার্যকর হবে আগস্ট মাস থেকে। পরে তা এরিয়ার-সহ প্রাক্তন বিধায়করা পাবেন।এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই এদিন অসমদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন শুভেন্দু। তিনি জানান, এই টাকা অসমের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সাধারণ মানুষকে সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিতে প্রত্যেক বিধানসভায় তৈরি হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র। এই কেন্দ্র চালাতে মাসিক ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। তবে তার জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শর্ত না মানলে টাকা মিলবে না। স্পিকারকে এই বিষয়টি দেখতে হবে।”

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার বিজেপির তরফে প্রতিটি এলাকায় বিধায়ক সেবা কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের তরফে ২০৭ আসনে সেই সেবা কেন্দ্র খোলা হবে (নন্দীগ্রাম আসন ছেড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে এখনও উপনির্বাচন হয়নি)। কিছু আসনে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র চালু হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক বিরোধী বিধায়কও অফিস খোলেন সাধারণকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য। এবার রাজ্যের সব বিধানসভায় বিধায়ক সেবা কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি তা চালাতে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বিধায়ক সেবা কেন্দ্রগুলির নাম রাখতে হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র।

সেই অফিস চালাতে মিলবে মাসিক ৩০ হাজার টাকা। তবে শর্ত আছে, অফিসের নাম নেতাজির নামে রাখতে তো হবেই। পাশাপাশি রাজ্য তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর থেকে পাঠানো হবে নেতাজির ধুতি, পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি। সেই ছবি রাখতেই হবে। শর্ত মানলে মিলবে টাকা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বলেন, “এটা আমার প্রস্তাব বা শর্ত যাই বলুন। স্পিকার মহোদয়কে বিষয়টি দেখতে হবে। শর্ত মানলে তবে মিলবে টাকা। পরের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীকে দিয়ে সংশোধন করানো হবে। তারপর থেকেই টাকা মিলবে। আগস্ট মাস ধরেই টাকা মিলবে।”রাজ্য রাজনীতিতে হঠাৎ করেই সামনে এসেছে নেতাজির প্রসঙ্গ। দেশনায়ককে নিয়ে কোচবিহারের নেতা অনন্ত মহারাজের একাধিক মন্তব্য বির্তক তৈরি করেছে। বিজেপির অন্দরেই অনেকেই তা ভালো ভাবে নিচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তারই মধ্যে রাস্তায় নেমে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে বিজেপিকে খোঁচা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই আবহে নেতাজির নামে বিধায়ক সেবা কেন্দ্র শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট জবাব, ”আমরা কোনও বাউন্ডারি টেনে লোকসংখ্যা নির্ধারণ করে নতুন মানচিত্র বানাচ্ছি না। এটার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই কাজটা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।” এরপরেও অভিযোগ এবং দাবি জানানোর সুযোগ জনগনের থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।দ্য কলকাতা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশের আগে এদিন আলোচনায় অংশ নেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সজল ঘোষ। ফিরহাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ”আপনার তো আরও ছয়মাস মেয়াদ ছিল। তা শেষ হওয়ার আগেই আপনি (পড়ুন-ফিরহাদ হাকিম) পালালেন কেন? পুরসভা একটা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি। মানুষকে পরিষেবা আপনাকে দিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু তা না করে আপনি পালিয়ে গেলেন।” পালটা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ”আমি নীতিগত ভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কীসের নীতিতে হচ্ছে?”এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র আরও জানান, পুরো বিষয়টি আমলাদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে, ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে না ছেড়ে দিয়ে জন প্রতিনিধিদের যুক্ত করে সর্বদল বৈঠক করে করলে আরও ভাল হত। এর পালটা জবাব দিতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ”হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।” শুধু তাই নয়,  দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ঋতব্রত শিবির অর্থাৎ ‘আসল’ তৃণমূলের দুই বিধায়ক অর্থাৎ ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”বিরোধী দলের বিধায়ক জাভেদ খান আর ফিরহাদ হাকিমসাহেব যেভাবে বললেন তাতে মনে হল যেন পুরোনো মানচিত্র সরিয়ে আমরা নতুন কিছু করে দিলাম।” কিন্তু বিষয়টি যে মোটেই তা নয়, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

You might also like!