
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাদল অধিবেশনের মধ্যেই আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল পাস করাতে তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার। সেই লক্ষ্যেই লোকসভার তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে এই বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়ে চলবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস বিলের পাশাপাশি মহিলা সংরক্ষণ বিলও সংসদে পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই বিলকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সাংবিধানিক সংশোধনী হিসেবে আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জরুরি। তবে শুরু থেকেই সরকারের এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী শিবির। ব্যাপক বাধার মুখে পড়ে সেই কঠিন অঙ্ক মেলাতেই বিরোধী দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিজেপি। এদিকে সংসদে অচলবস্থার মাঝেই কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বুধবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। কংগ্রেস সূত্রের খবর, এই সাক্ষাতে বিলটি নিয়ে বিরোধী দলের জানতে চাওয়া হয়। ৫০ মিনিটের এই বৈঠকে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও। তবে জানা যাচ্ছে, বিতর্কিত এই বিলটি সমর্থনে নারাজ কংগ্রেস।
জানা যাচ্ছে, কংগ্রেস সমর্থন না দিলেও বিল পাশ করাতে ডিএমকে-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিজেপি, তেমনই বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সরকারি শিবিরের একাধিক সূত্রের দাবি, ডিএমকে শেষ পর্যন্ত বিলটির বিরোধিতা না করলে সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যার অনেকটাই জোগাড় হয়ে যাবে। তবে তাতেও পুরো অঙ্ক মিলবে না। তাই কয়েকজন বিরোধী সাংসদের ক্রস ভোটিং অথবা ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সংসদে বিল ওঠার আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই সংখ্যার লড়াই চলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, ডিলিমিটেশন প্রশ্নে দক্ষিণের রাজ্যগুলির আপত্তি নতুন নয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা বারবার তুলে ধরেছে তামিলনাড়ু-সহ একাধিক রাজ্য। সেই কারণেই ডিএমকে-র অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিজেপি নজর দিয়েছে অন্য বিরোধী দলগুলির দিকেও। সরকারি সূত্রের খবর, এবার যে বিলটি আনা হবে তাতে বিরোধীদের মূল আপত্তির যে জায়গা, সেই আসনসংখ্যার বৃদ্ধির হার, সেটা খসড়ায় উল্লেখ করা হতে পারে। অর্থাৎ জনসংখ্যা যা-ই হোক, সব রাজ্যে যে ৫০ শতাংশ হারেই আসন বাড়ানো হবে, সেটা লিখিত আকারে দিতেও প্রস্তুত সরকার।
