Life Style News

1 hour ago

HANDLOOM SPECIAL: পুজোয় খাঁটি হ্যান্ডলুম শাড়ি কিনবেন? আসল-নকল চেনার আগে জানুন হ্যান্ডলুমের পরিচয়

Handloom Saree Tips
Handloom Saree Tips

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  পুজোর কেনাকাটায় শাড়ির প্রতি বাঙালির টান চিরন্তন। বিশেষ করে হ্যান্ডলুম শাড়ির ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও স্বকীয়তা আজও আলাদা জায়গা করে রেখেছে। তবে খাঁটি হ্যান্ডলুম কিনতে গেলে শুধু নকশা বা কাপড়ের সৌন্দর্য দেখলেই হবে না, সবার আগে জানতে হবে হ্যান্ডলুম আসলে কী এবং কীভাবে তৈরি হয়।

ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে হস্তচালিত তাঁতের বস্ত্র। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দক্ষ তাঁতিরা নিজেদের নিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি করে চলেছেন বৈচিত্র্যময় ও অনন্য সব শাড়ি। অনেকের ধারণা, হ্যান্ডলুম মানেই শুধু সুতি কিংবা মলমল। কিন্তু সেই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। বেনারসি থেকে কাঞ্জিভরম—বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী শাড়িও হস্তচালিত তাঁতে তৈরি হতে পারে। তাই পুজোয় পছন্দের হ্যান্ডলুম শাড়ি কেনার আগে তার বুনন, কাপড় ও তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকাটা জরুরি। এতে যেমন আসল হ্যান্ডলুম চেনা সহজ হবে, তেমনই ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকেও দেওয়া যাবে প্রাপ্য সম্মান।


∆ কিন্তু যে কাপড় দাম দিয়ে কিনছেন, তা যে সত্যিই মেশিনে তৈরি নয়, বুঝবেন কীভাবে?

১। হ্যান্ডলুম কাপড় কেনার সময় তার দুই দিক ভালো করে দেখুন। বুননের ধরন, সুতোর বিন্যাস, রং বা নকশায় সামান্য তারতম্য থাকতে পারে।

২। তবে সিল্কের ক্ষেত্রে তফাৎ বোঝা খানিক কঠিন। ভারতে জনপ্রিয় সিল্কের মধ্যে রয়েছে মালবেরি, তসর, মুগা ও এরি। প্রত্যেকটির টেক্সচার, গুণমান ও উৎপত্তিস্থল আলাদা। খাঁটি সিল্ক সাধারণত নরম ও মৃদু উজ্জ্বল হয়, অতিরিক্ত ঝকঝকে হলেই সাবধান। সবচাইতে জরুরি হল, সিল্কের শাড়ি কেনার সময় ‘সিল্ক মার্ক’ যাচাই করে নেওয়া। এই সার্টিফিকেশনই সিল্কের বিশুদ্ধতা জানান দেয়। যদিও বিশুদ্ধ সিল্ক মানেই যে তা হাতে বোনা হবে, তেমন নয়।

৩। ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগ’ কোনও পণ্যের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল ও তার সঙ্গে যুক্ত বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দেয়। কোনও এলাকার বিখ্যাত হ্যান্ডলুম শাড়িটি কেনার হলে এই ‘জি আই ট্যাগ’ যাচাই করে নিন। যেমন, ছত্তীসগড়ের চম্পা সিল্ক শাড়ি ২০১০ সালে জি আই স্বীকৃতি পায়।

৪। দাম বেশি হলেই যে তা হ্যান্ডলুম শাড়ি হলে, এমন বলা যায় না। তবে হস্তচালিত তাঁতে কাপড় বুনতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও সময় লাগে। তাই হ্যান্ডলুমের কাপড় স্বাভাবিকভাবে দামও অনেক বেশি এই ধরনের শাড়ির। মেশিনে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত কাপড়ের সঙ্গে এর দাম তুলনা করা ঠিক নয়।

৫। অঞ্চলভেদে বদলে যায় হ্যান্ডলুমের রূপ। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু, স্থানীয় কাঁচামাল ও সংস্কৃতি সেখানকার তাঁতশিল্পকে প্রভাবিত করেছে। উত্তরপ্রদেশের বেনারসি, তামিলনাড়ুর কাঞ্জিভরম, মহারাষ্ট্রের পৈঠানি কিংবা ছত্তীসগড়ের কোসা সিল্ক—প্রতিটি বস্ত্রের নিজস্ব আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই এক জায়গার হ্যান্ডলুম শাড়ির বৈশিষ্ট্য বুঝে নিলেই যে তা দিয়ে অন্য এক এলাকার হ্যান্ডলুম শাড়িকে বিচার করা যাবে, এমনটা নয়।

হ্যান্ডলুমে তৈরি যে কোনও পোশাকই সাধারণত সীমিত সংখ্যায় প্রস্তুত করা হয়। আর তাই তার ‘এয়ারলুম ভ্যালু’ এত বেশি। হ্যান্ডলুম শাড়ি কেবল পোশাক হয়ে থেকে যায় না; বিয়ে, হয়ে ওঠে নির্দিষ্ট এক সময় ও এলাকার ঐতিহ্য।

You might also like!