Cooking

58 minutes ago

BONEDI BARI RECIPES: বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো মানেই মধুরান্ন! রইল ৩ ঐতিহ্যবাহী মণ্ডা-মিঠাইয়ের রেসিপি

BONEDI BARI RECIPES
BONEDI BARI RECIPES

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই শরতের নীল আকাশে ভেসে বেড়াবে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ। বাতাসে বাজবে আগমনী সুর, আর ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে...’ জানান দেবে দেবীপক্ষের আগমন। বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর বছরের সেরা উৎসব দুর্গাপুজো যে একেবারে দোরগোড়ায়।

তবে পুজো কি শুধু মন্ত্রোচ্চারণ, অঞ্জলি কিংবা আরতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ? একেবারেই নয়। বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো মানেই পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জমিয়ে খাওয়াদাওয়ারও উৎসব। আর বনেদি বাড়ির পুজো হলে তো কথাই নেই! দেবীর থালায় সাজানো নানা রকম ভোগ, মিষ্টান্ন আর প্রসাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু বছরের প্রথা ও পারিবারিক ঐতিহ্য। সেই ভোগের পদগুলিতে রন্ধনশিল্পের সঙ্গে মিশে থাকে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগ।

বিশেষ করে প্রসাদী থালায় থাকা মণ্ডা-মিঠাইয়ের স্বাদ যেন আজও বহন করে চলেছে সেই পুরনো দিনের পুজোর স্মৃতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এমনই ৩টি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির প্রণালী রইল। পুজোর আবহে ঘরেই কীভাবে বানাবেন, দেখে নিন।

ক্ষীরমোহন— পুজোয় অন্নভোগ ও বলিদানের পাশাপাশি মিষ্টান্ন হিসেবে ক্ষীরমোহনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে বাড়ির পুজোর ভোগের থালায় অন্যান্য পদের সঙ্গে ক্ষীরমোহন থাকবেই থাকবে। কীভাবে রাঁধবেন?

উপকরণ: দুধ ৩ লিটার, ছানার জল ৩ কাপ, ছোট এলাচ ৪-৫টি, চিনি ১ কাপ, ময়দা ১০০ গ্রাম, সুজি ৫০ গ্রাম।

প্রণালী: প্রথমে চিনি ও জল দিয়ে হালকা শিরা তৈরি করুন। দুধ ফুটিয়ে ছানার জল দিয়ে ছানা কাটিয়ে ছাঁকনিতে জল ঝরিয়ে নিন। থালায় ছানা, এলাচ গুঁড়ো, ময়দা, সামান্য চিনি ও সুজি একসাথে খুব ভালো করে ঠেসে মণ্ড তৈরি করুন। ছোট ছোট গোল্লা বানিয়ে চিনির শিরায় ফুটিয়ে রস চিপে তুলে রাখুন। অন্য পাত্রে দুধ ঘন করে ক্ষীর বানিয়ে নিন। সেই ঘন ক্ষীরে রসগোল্লাগুলি ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি ক্ষীরমোহন।

আটার নাড়ু— বহু পুরনো বাড়ির পুজোতেই মায়ের বিশেষ নৈবেদ্য হিসেবে স্থান পায় এক ধরনের বিশেষ নাড়ু। এই নাড়ু সাধারণত আটা দিয়ে তৈরি হয়। বাড়ির মেয়েরা যুগের পর যুগ ধরে এই মিষ্টান্ন তৈরি করে আসছেন।

উপকরণ: নারকেল কোরা ৪ কাপ, আটা ১/২ কাপ, আখের গুড় ২ কাপ, ভেলি গুড় ১/২ কাপ, থেঁতো করা বড় এলাচ ৫-৬টি এবং ঘি ৫-৬ টেবিল চামচ।

প্রণালী: ভারী পাত্রে নারকেল, ঘি ও আখের গুড় দিয়ে আঁচ দিন। পাক এলে ভেলি গুড়, এলাচ ও আটা মেশান। মিশ্রণটি থকথকে হলে নামিয়ে ইষদুষ্ণ অবস্থায় হাতে ঘি মেখে গোল গোল নাড়ু গড়ে নিন।

তক্তি— কোনও কোনও বনেদি বাড়ির প্রসাদী চমক হল ‘নারকেলের তক্তি’। এই মিষ্টির আকারে অবাক হতে হয়। আগেকার দিনে সাধারণত ফুল, পাতার ছাঁচ ফেলে তক্তি তৈরি হত। তবে, পুজোর ভোগের জন্য তা বিশেষ ভাবে গড়ে তোলা হয়। জানা যায়, পরাধীন ভারতে স্বদেশি আন্দোলনের সময়ে এই তক্তি গড়ার জন্য কারিগরেরা ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘চরকা’ খোদাই করা বিশেষ নকশার কাঠের ছাঁচ তৈরি করেছিলেন। পরাধীন ভারতে তক্তির চল ছিল দারুণ। কীভাবে বানাতে হয়?

উপকরণ: নারকেল কোরা ২ কাপ, ক্ষীর ১/২ কাপ, গুড় ১ কাপ, সাদা তিল ১/২ কাপ এবং নকশাদার ছাঁচ।

প্রণালী: শুকনো কড়াইতে তিল ভেজে গুঁড়ো করে রাখুন। কড়াইতে নারকেল কোরা, গুড় ও ক্ষীর একসাথে দিয়ে ভালো করে পাক দিন। নামানোর আগে তিলগুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মিহি করে বেটে কাঠের ছাঁচে ফেলে চেপে নিলেই তৈরি স্বদেশি আমেজ মাখা তক্তি।

You might also like!