দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কয়েক মাস আগেই ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ গান ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নোরা ফতেহি। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আইনি জটিলতায় মরক্কান অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী। এ বার চার্টার্ড বিমানকে ‘খেলনা বিমান’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা। গান্ধীনগরের একটি আদালতে দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলায় সংস্থার দাবি, নোরার মন্তব্যের কারণে তাদের সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যবসাতেও।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। সংস্থার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুম্বই থেকে জয়পুর যাওয়ার সময় একটি চার্টার্ড বিমানে ছিলেন নোরা। সেই যাত্রার সময়ই তিনি বিমানের ভিতরে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। ভিডিওতে বিমানটির আকার নিয়ে রসিকতা করতে গিয়ে সেটিকে ‘মিনিয়েচার টয়’ অর্থাৎ ছোট খেলনার সঙ্গে তুলনা করেন অভিনেত্রী। পরবর্তীকালে সেই ভিডিও নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটমাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।
বিমান সংস্থার দাবি, নোরার ওই মন্তব্য নিছক মজা হিসেবে নেওয়ার মতো ছিল না। তাঁর বিপুল সংখ্যক অনুরাগী ও সোশাল মিডিয়া অনুসারীর কারণে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই নাকি সংস্থার বিমানের বুকিং বাতিলের প্রবণতা বাড়তে থাকে। ব্যবসায়িক ক্ষতির কথাও আদালতে উল্লেখ করেছে তারা। গত এপ্রিল মাসে দায়ের করা মামলায় সংস্থার অভিযোগ ছিল, কোনও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াই নোরা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বেপরোয়া মন্তব্য করেছেন। সংস্থার আরও দাবি, অভিনেত্রীর মন্তব্যের পর তাদের বুকিং প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একইসঙ্গে বুকিং করার পর তা বাতিল করার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে শুধু সংস্থার সামাজিক ভাবমূর্তিই নয়, বাণিজ্যিক কার্যকলাপও ক্ষতির মুখে পড়ে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, নিজেদের অবস্থানও আদালতে স্পষ্ট করেছে বিমান সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, যে চার্টার্ড বিমানটি নিয়ে নোরা মন্তব্য করেছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং যাত্রার জন্য উপযুক্ত। বিমানটি ডিজিসিএ (DGCA)-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং এনএসওপি (NSOP)-এর নিয়ম মেনেই আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল বলেও দাবি সংস্থার। তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি নোরার ওই বিতর্কিত মন্তব্য-সহ সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশও চেয়েছে বিমান সংস্থা। মামলাটি নিয়ে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে কী হয়, সে দিকেই এখন নজর। তবে এখনও পর্যন্ত গোটা ঘটনায় নোরা ফতেহির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
