
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছবির প্রচ্ছদ বলতেই যেন তাঁর নামটি অনায়াসে মনে আসে। টলিউডের পরিচিত ‘পোস্টার গার্ল’ একতা ভট্টাচার্য গত প্রায় ১৪ বছর ধরে সিনেমার প্রচ্ছদ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য ছবির পোস্টারে তাঁর সৃজনশীলতার ছাপ রয়েছে। শুধু সিনেমা নয়, নাটক, বইয়ের প্রচ্ছদ এবং বিভিন্ন কভার মিলিয়ে তাঁর কাজের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। আর সেপ্টেম্বর মাসেই একতা ভট্টাচার্যের প্রচ্ছদ শিল্পে সাজতে চলেছে পাঁচটি ছবি। ফলে ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর শিল্পীসত্তার আরও এক ঝলক দেখতে পাবেন দর্শক।
‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’, ‘ডাক্তার কাকু’, ‘নজরবন্দি’, ‘বেপরোয়া’, ‘ভুতু আয়া ভাগো’ সবকটি ছবির পোস্টার এঁকেছেন একতা। মহিলা প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে এ এক বিরল কৃতিত্ব। একতার কথায়, ‘আমি বারাকপুরের মেয়ে। বারাকপুর থেকে কলকাতায় এসে কাজ করা সহজ ছিল না। কাজের প্রথম দিকে শুনতাম দক্ষিণ কলকাতার না হলে টলিউডের কাজ পাওয়া কঠিন হয়। কিন্তু, আমি সেই প্রত্যেকটা জিনিস ভুল প্রমাণ করেছি।’ কথায় কথায় আরও জানালেন, ‘শুরুর দিকে বারাকপুরের মেয়ে হয়ে এসে কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছিল। এবং সব থেকে বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল মহিলা প্রচ্ছদ শিল্পী হিসাবে। কারণ তখন শুনেছিলাম এই বিভাগে পুরুষ আধিপত্য বেশি। সেক্ষেত্রে মহিলা প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ ছিল।’ নন ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে টলিউডের নেপথ্যে এতদিন টিকে থাকা মুখের কথা নয়। শোনা যায় কোনও গডফাদার ছাড়া টলিউডের কাজ করা সম্ভব হয় না। এই সুরেই একতা বললেন, ‘আমিও শুনেছি গডফাদার ছাড়া কাজ করা যায় না। কিন্তু কোনও গডফাদার ছাড়াই এত বছর ধরে টিকে রয়েছি।’ যদিও বর্তমানে পরিচালক প্রভাত রায়ের কন্যা হিসেবেও পরিচিতি একতার।
বর্ষীয়ান পরিচালকে সন্তান স্নেহে আগলে রেখেছেন একতা। ‘আমার একটা সময় মনে হয়েছিল প্রভাত রায় নিঃসঙ্গতায় ভুগছেন এবং ডিপ্রেশনে তলিয়ে যাচ্ছেন। ওঁর আরও অনেক ভালো কাজ উপহার দেওয়ার বাকি আছে। তখন আমি বাবির হাত ধরেছিলাম।’ প্রভাত রায়ের পরিচালনায় নতুন ছবি আসছে। ছবির নাম ‘বলাই’। সেই ছবির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একতা। একতার কাজের প্রশংসা করেছিলেন কিংবদন্তি মারাদোনা। ২০১৭ সালে মারাদোনার কলকাতা সফরের পোস্টার করেছিলেন একতা। সদ্য কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন একতা। একরত্তিকে সামলে জোরকদমে চলছে প্রচ্ছদ আঁকার কাজও। সবটাই দক্ষ হাতে ব্যালেন্স করছেন টলিউডের ‘পোস্টার গার্ল’।
