kolkata

1 hour ago

Suvendu Adhikari : ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে— লিখলে আমরাই টুকরো করে দেব: মুখ্যমন্ত্রী

Suvendu Adhikari
Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভায় উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিল পেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে মন্তব্যের জেরে বিতর্কের কেন্দ্রে মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে বাঙালি আবেগ ও সংস্কৃতিতে আঘাতের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। ভবানীপুর থানায় স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি থানার সামনে তাঁর ছবি ও কুশপুতুল পোড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। এবার সেই ঘটনাকে ঘিরেই কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “ভবানীপুর থানার সামনে যারা ছবি পুড়িয়েছে, সবাইকে গ্রেপ্তার করুন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

বাগেশ্বর বাবার আমিষ-বিতর্কে গোটা রাজ্যজুড়ে সুর চড়িয়েছেন আমিষভোজী বাঙালি-হিন্দুদের একাংশ। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “রাজ্যে একজন ধর্মগুরু এসেছিলেন। তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। গ্রহণ করার হলে করবেন, না করার হলে করবেন না। উনি কারও উপর চাপিয়ে দেননি। তা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে শুনলাম। ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পোড়ানো হয়েছে।” তাঁর কথায়, “সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা এই কাজ করেছেন, সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে।” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে শুভেন্দুর আক্রমণ, “তোষণের রাজনীতি অনেক করেছেন, তাই আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে আপনাদের অবস্থা। আমাদের ২০৭, উপনির্বাপনের পর সেই সংখ্যা আরও বাড়বে।” রেজিনগরেও জোরদার লড়াইয়ের হুঙ্কার শুভেন্দুর।


দুর্গাপুজোর আগে বঙ্গে পা রেখেই নতুন করে করে আমিষ বিতর্কে উসকে দেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা। নিজের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপুজোয় যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডী’ বা ভেকধারী বা ভণ্ড। পুজোর সময় আমিষ ত্যাগেরও নিদানও দিয়েছেন তিনি। আর যা ঘিরে পুজোর মুখে দানা বাধে বিতর্ক। যদিও ধর্মগুরুর এই নিদানকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্বের একাংশই। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বহিরাগত কোনও সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদাভ্যাস বদলে যাবে না। আমিষ ভোজনে শমীকের পথে হেঁটেই বিতর্ক উড়িয়েছেন সুকান্ত মজমুদার থেকে দিলীপ ঘোষরাও। দুর্গাপুজোয় আমিষ ভোজনে কোনও আপত্তি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু না জানালেও মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাঙালি খাদাভ্যাসে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। তবে আমিষ নিয়ে সাধারণ মানুষের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিলেও এরাজ্যে এসে কোনও ধর্মগুরুর অপমান যে বরদাস্ত নয়, তা সাফ জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানার। অধ্যাপক বদলি বিল নিয়ে চর্চা চলাকালিন ডোমকলের বিধায়ক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া ধারণ করেছেন।” এরপরই পালটা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তোষণের রাজনীতির জন্যই আজ আপনাদের এই অবস্থা। দেখবেন উপনির্বাচনে এই গেরুয়াধারীরা কী অবস্থা করে।  

 বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত বিল পেশ হয়েছে বিধানসভায়। এই বিল পাশ হলে রাজ্যের যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের। সরকারের দাবি, এই বিল পাশ হলে তাতে শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে। পড়ুয়ারাও উপকৃত হবে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীদের একাংশ। বিধানসভায় বিল সংক্রান্ত আলোচনায় অধিকাংশেরই দাবি, এটা আদতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার হরণের চেষ্টা, যা বেআইনি।

কোন পদ্ধতিতে এতদিন নিয়োগ করা হত বিশ্ববিদ্য়ালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের? বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার ফলে অধ্যাপক বা শিক্ষাকর্মী, কেউ-ই সরাসরি সরকারি কর্মী নন। তাঁরা সরকার পোষিত। ফলে অধ্যাপকদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরাসরি সরকারের ভূমিকা ছিল না। তাঁদের নিয়োগ কর্তা উপাচার্য। এবার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে পিএফ, ছুটি-সহ যাবতীয় নিয়ম আলাদা। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বদলি হয় না। অর্থাৎ যে অধ্যাপক বা কর্মী যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন, তিনি জানেন সেখান থেকেই অবসরগ্রহণ করবেন। আর এখানেই শুরু হয় সমস্যা। এক জায়গায় বছরের পর বছর থাকার ফলে অধিকাংশক্ষেত্রেই আধিপত্য তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কলকাতার যাদবপুর বা প্রেসিডেন্সির মতো ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক অধ্যাপক রয়েছেন যাদের সান্নিধ্য পেলে জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বিশেষভাবে উপকৃত হবে। কিন্তু নিয়মের গেরোয় তা হয় না। সেই সব কথা ভাবনাচিন্তা করেই পেশ করা হল ‘বিশ্ববিদ্য়ালয় অধ্যাপক বদলি’ বিল। এই বিল পাশ হলে, বিষয় ও শূন্যপদের ভিত্তিতে বদলি করা যাবে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের।বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গোপাল সেনকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রয়োজন হলে কমিশন বসাব। আগের ঘটনা সব বের করব।”যাদবপুরেও পরীক্ষা বয়কটের ডাক দিয়েছিল নকশালরা। এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য গোপাল সেন। এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস চত্বরে কুপিয়ে খু*ন* হন তিনি। অভিযোগ ওঠে, নকশালদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে নকশাল আন্দোলনকারীরা স্বীকার করে নেন, এই ঘটনার পিছনে নকশালরা রয়েছে। সেই ঘটনার তদন্ত চেয়ে এবার সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “আগের ঘটনা সব বের করব।” এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নামধারী জুটার লোকেরা কী কী করেছেন সব তথ্য আছে।” তিনি বলেন, “নকশালদের এই বীজকে তুলে ফেলার সঠিক সময় এটা। বলছে, রেজ স্যালুট কিষেনজি! কিষেনজি ১ হাজার মানুষকে খুন করেছে। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে লিখলে আমরাই টুকরো করে দেব আপনাদের। গান্ধীজি নয়, নেতাজির ভাষায় জবাব দেব।”


তবে এতে সুবিধার থেকে অসুবিধাই বেশি বলেই দাবি মুস্তাফিজুর রানা-সহ বেশ কয়েকজনের। কারণ মোটের উপর স্পষ্ট, এভাবে ‘প্রতিবাদীদের’ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই বিল প্রসঙ্গে বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিয়োগ করে না সরকার। তাঁর নিয়োগ কর্তা উপার্চায। এক একটি বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ছুটির নিয়মও আলাদা। রয়েছে নিজস্ব আইন। একজন যিনি সরকারের নিন্দা করলেন, তাকে এমন জায়গায় পাঠানো হল সেখানে নিয়ম পুরো আলাদা। তাহলে তো সমস্যা।” একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রানার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া ধারণ করেছেন। এই বিল কতটা স্বাধীন সত্ত্বা বজায় রাখবে, তা প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বদলির কোনও নিয়ম নেই। মাঝপথে তো চাকরির শর্ত ভাঙা যায় না। এ বিল পাশ হলে নিয়োগের শর্ত ভাঙবে। যারা গবেষণার কাজে যুক্ত, সেই অধ্যাপকদের হঠাৎ করে ট্রান্সফার করে দিলে পড়ুয়াদের ক্ষতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে সরকারের হাতে নিলে তা বেআইনি।”  

বিধায়ক রানার মন্তব্যের পালটা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মুস্তাফিজুর রানা ও নওশাদ সিদ্দিকি বুঝতে পারছেন, এই বিলটা কোথায় আঘাত করবে। আমাদের দেখতে হবে ঋষি অরবিন্দের তৈরি যাদবপুরকে আমরা সেন্টার অব এক্সিলেন্স করব। হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ভারত সরকার, রাজ্য ৩০০ কোটি দেবে। আর আপনারা জোর করে হস্টেল থেকে ছাত্রদের নিয়ে যাবেন? ওরা বলবে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’? সবাইকে টুকরো করে দেব। সবকিছুর সীমা আছে একটা। ওরা বলে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’, একহাজার নিরিখ মানুষকে খুন করেছে কিষেণজি। যারা সমাজ বদল করতে চান, তাঁদের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দেব। আপনারা সেখানে গিয়ে নিজেদের মেধা ব্যবহার করুন।”

‘বদলের চাকরি, বদলি হয়ে যান। অসুবিধা থাকলে চাকরি ছেড়ে দিন। ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।’ যাদবপুরের প্রসঙ্গ টেনে বামেদের নিশানা করে বিধানসভায় নয়া ‘অধ্যাপক বদলি’ বিলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিলটি পেশ হওয়ার পর তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুস্তাফিজুর রানা, নওশাদ সিদ্দিকি-সহ একাধিক বিরোধী বিধায়ক। শিক্ষাক্ষেত্রে ‘গৈরিকরণের’ চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, শিক্ষায় কোনও রকম রং লাগানোর নীতি তাঁর সরকারের নেই। তাঁর কথায়, “সিপিএম অনিলায়ন করেছিল। মমতা মমতায়ন করেছিল। আমরা তা করব না।” এক শিক্ষানীতির মাধ্যমে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই শিক্ষাবিদদের যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ পেশ হওয়ার পরেই কার্যত হৈহট্টগোল শুরু হয়ে যায় বিধানসভায়।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”যাদবপুরে কিষেণজি রেড স্যালুট লেখা হচ্ছে। তিনি এক হাজারের বেশি নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন। জওয়ানদের হত্যা করা হয়েছে। ফ্রি প্যালেস্তাইন লেখা হচ্ছে। প্রফুল্ল চাকী, ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী হাজরা, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে এসব হতে দেব না।” এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ”ভারত টুকরে হোঙ্গে লিখলেই আমরা তাদের টুকরো করে দেবো।” 

কটাক্ষের সুরেই তিনি বলেন, ”জুটার লোকেরা কি করেছেন সব ইতিহাস আমার কাছে আছে। একশ্রেণীর অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করছেন। যা আমরা মেন নেব না। আমরা এইসব বিরাট বিরাট নেতাদে, যারা ইউনিভার্সিটিতে মার্কসবাদ লেলিনবাদ কৃষকের অধিকার শ্রমিকের অধিকার নিয়ে লড়াই করছেন তাদেরকে ব্যবহার করব। যাতে দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আরও শক্তিশালী হয়।” এখানে যে কোনওভাবেই গৈরীকরণের চেষ্টা হচ্ছে না তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা থাকবে এই বিলে। যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা বা অন্য বড় শহরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপনা করেছেন, তাঁদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও পড়াতে যেতে হবে। এই নীতি শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। স্বাভাবিকভাবে এই বিল শিক্ষামহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় হয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার ফলে শিক্ষক, আধিকারিক কিংবা শিক্ষাকর্মীরা সরাসরি সরকারি কর্মী নন। তাই স্বাভাবিকভাবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই বদলি কি পারস্পরিক সম্মতিক্রমে হবে নাকি সরকারের ইচ্ছামতো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বদলি করা হবে। ওই বিল আসার পর সমস্ত বিভ্রান্তি দূর হবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


আসলে বঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনে দুর্গাপুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গণ্ডি থেকে বের করে সার্বিকভাবে বাঙালির ‘উৎসবে’ পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে। এমনকী, বামেরা নিজেদের পত্রপত্রিকায় দুর্গাপুজো শব্দটি ব্যবহার না করে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করা শুরু হয়ে। বঙ্গে পালাবদলের পর সেই শারদোৎসব লেখা নিয়ে প্রবল আপত্তি শুরু করেছে শাসকদল। আগেই দিলীপ ঘোষ-সহ একাধিক মন্ত্রী ‘শারদোৎসব’ লেখা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামেদের সেই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন। পুজো কমিটিগুলিকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেন, “একশ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করতেন। সমস্ত দুর্গাপূজো কমিটির কাছে আবেদন করব কমিউনিস্টরা যে বুকস্টল করেন, সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লিখলে স্টল করতে দেবেন না।”

এমনিতে তথাকথিত বামপন্থীরা ধর্ম মানেন না। সরাসরি দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকে না লালপার্টি। কিন্তু পুজোর ভিড়ে জনসংযোগের সুযোগও ছাড়ে না বামেরা। বাম জমানার ৩৪ বছরে পুরো মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল দেওয়ার সংস্কৃতির বিস্তর চাষবাস হয়েছিল। লাল শালুতে মোড়া মার্কসবাদী সাহিত্যের স্টল পুজোর ভিড়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ত। পুজো যত বড় হত, সিপিএমের স্টলও তত বড় হত। সরাসরি পুজো মণ্ডপের ভিতরে গিয়ে বসার ক্ষেত্রে লোকাল কমিটির নেতাদের কুণ্ঠা থাকত। পার্টির নিষেধাজ্ঞাও ছিল। বইয়ের স্টলই ছিল ভরসা। ২০১১-এর পর ছবিটা বদলেছে। অধিকাংশ মণ্ডপের বাইরে আর সেই লাল শালুতে মোড়া চিরাচরিত সিপিএমের বইয়ের স্টল খুঁজে পাওয়া যায় না। অল্প কয়েকটি বাছাই করা জায়গায় এখনও স্টল দেওয়া হয়।১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে প্রথম পুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়া হয়েছিল। পার্ক সার্কাসে স্টল দেওয়ার ঐতিহ্য এখনও সিপিএম নেতারা ধরে রেখেছেন। এখনও ওই স্টলগুলিতে বিভিন্ন মার্কসীয় সাহিত্য পত্রিকা, বই বিক্রি করা হয়। উদ্দেশ্য, সাহিত্যের আড়ালে নিজেদের আদর্শ প্রচার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিলেন, বই বিক্রিতে আপত্তি নেই। কিন্তু আগে মানতে হবে ধর্মীয় উৎসবেই বই বিক্রি হচ্ছে।

You might also like!