
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নেশামুক্ত ভারত, নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্যে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বালুরঘাটের পর বুধবার দ্বিতীয় দফায় নিষিদ্ধ কাফসিরাপের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ করা হল। ইকোপার্কে নিষিদ্ধ কাফসিরাপের বিপুল পরিমাণ বোতল বুলডোজার দিয়ে নষ্ট করা হয়। আর সেই অভিযানের স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। ইকোপার্কে প্রায় ৩ লক্ষ ১০ হাজার ফেনসিডিলের বোতল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের পরই নিষিদ্ধ কাফসিরাপের বেআইনি কারবার নিয়ে কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ব্যবসা চলবে না।” এমনকী এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কারবারি কাউকে ছাড়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারী।
প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে ‘নেশামুক্ত ভারত ২০২৯’ কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গে এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় নিষিদ্ধ কাফসিরাপ ধ্বংস করে শুভেন্দু বলেন, “সম্প্রতি যে সমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে নেশায় আসক্ত লোকেরাই বর্বরোচিত কাণ্ডে যুক্ত। এমনকী মহিলা সংক্রান্ত ঘটনাতেও যুক্ত তাঁরা। নেশায় আসক্তদের জন্য রাজ্যের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সরকার গড়ার প্রথম ৫ মাসে আমাদের লক্ষ্য ছিল নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যে নিষিদ্ধ কাফসিরাপ কোম্পানিগুলো আর চলবে না।” শুধু তাই নয়, নিষিদ্ধ কাফসিরাপ আমদানির সব রাস্তা বন্ধ করার বার্তাও এদিন পুলিশকে বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রীর।
শুভেন্দু কথায়, “এসটিএফের উদ্যোগে অসম থেকে কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া গ্রেপ্তার হয়েছে। ড্রাগ সিন্ডিকেট ভাঙতে এসটিএফের হাতে পাওয়ার আছে এখন। বাংলার যুব সমাজকে বাঁচানোই আমাদের লক্ষ্য। আজ ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাফসিরাপ নষ্ট করেছি। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি। এর আগে বালুরঘাটে ২০ কোটির নিষিদ্ধ কাফসিরাপে বুলডোজার চালিয়েছি।” প্রশাসনিক অ্যাকশন সমাজবিরোধীদের কাছেও পরোক্ষ বার্তা গেল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২ তারিখ বালুরঘাটে সুকান্ত মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে বালুরঘাট পুলিশ সুপার অফিসের সামনে নিজে রোড রোলার চালিয়ে লক্ষ লক্ষ নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ধ্বংস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নিষিদ্ধ নেশা জাতীয় সিরাপ ধ্বংস করাই নয়, ডাক দিলেন নেশামুক্ত বাংলা গড়ারও।
