
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে রবিবার, ৩০ আগস্ট পর্দায় এল বহু প্রতীক্ষিত রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’। শো শুরু হওয়ার আগে থেকেই প্রতিযোগীদের তালিকা থেকে শুরু করে সঞ্চালক—সবকিছু নিয়েই দর্শকদের মধ্যে ছিল প্রবল কৌতূহল। গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একে একে প্রকাশ্যে এল বিগ বসের দুর্গের অন্দরমহল।
শো শুরুর আগেই অবশ্য কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের কিছু ঝলক ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানেই দেখা গিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রিয় ‘ভাজি’ হরভজন সিংকে। তবে প্রথম দিনেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন স্বয়ং সৌরভ। ‘দাদাগিরি’র পরিচিত সঞ্চালক বা ক্রিকেট মাঠের অধিনায়ক নয়, একেবারে ভিন্ন রাজকীয় অবতারে হাজির হয়েছেন ‘মহারাজ’। নিজের এন্ট্রি স্ক্রিনে দেখে তাঁর মুখেও দেখা গিয়েছে মুচকি হাসি। এদিনই প্রকাশ্যে এসেছে ‘বিগ বস বাংলা’র ১৫ জন প্রতিযোগীর সম্পূর্ণ তালিকা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মনামী ঘোষ, ভরত কল, সোনামণি সাহা, সৃজলা গুহ, নিরঞ্জন মণ্ডল, দুর্নিবার সাহা, ঝিলম গুপ্ত, দীপেন্দু বিশ্বাস-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। অভিনেত্রীদের নাচে গ্র্যান্ড ওপেনিংও হয়ে উঠেছিল আরও জমজমাট।
সোনামণি সাহা ও সৃজলা গুহর নাচ দর্শকদের নজর কাড়ে। প্রত্যেক প্রতিযোগীর সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। লাল-সাদা সাজে মনামী ঘোষের বাঙালিয়ানা যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনই ‘লাফটারসেন’ নিরঞ্জন মণ্ডলকেও দেখা যায় একেবারে বাঙালি বাবুর সাজে। প্রথম দুই প্রতিযোগী মনামী ও ভরত কল পরস্পরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা জানান। গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের আবেগঘন মুহূর্তও ছিল। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা তাপস পালের ছবি পর্দায় ভেসে উঠতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁর মেয়ে। মুহূর্তটি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। এদিকে মুম্বইয়ের গোরেগাঁও ফিল্ম সিটিতে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে প্রায় দু’মাস ধরে তৈরি হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’র বিশাল বাড়ি। এই বাড়িতে নেই সূর্যের আলো, নেই ঘড়ি। চারদিক জুড়ে একাধিক ক্যামেরার নজরদারি। জানা গিয়েছে, বাড়ির বিভিন্ন প্রান্তে ৮০টিরও বেশি ক্যামেরা রয়েছে। প্রায় তিন মাস এই পরিবেশেই থাকতে হবে প্রতিযোগীদের। অবশ্য পুরো সময়টাই একই প্রতিযোগীদের থাকতে হবে এমন নয়। নিয়ম অনুযায়ী কেউ মাঝপথে বাদ পড়বেন, আবার কেউ ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে ঘরে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেন, সেটাই হবে এই শোয়ের অন্যতম আকর্ষণ।

নির্মাতাদের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে বাছাই করার পর প্রতিযোগীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুধু বিতর্ক তৈরি করতে পারেন এমন মুখ নয়, রাজনীতি, খেলা, অভিনয়-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষকে এবার প্রতিযোগী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর প্রত্যেকের সঙ্গে মনস্তত্ত্ববিদদের একাধিক সেশনও হয়েছে। সেই পরীক্ষায় সফল হওয়ার পরই তাঁরা বিগ বসের ঘরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। শোয়ের সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়, তিনি নিজে প্রতিযোগী হলে কনফেশন রুমে মনের কথা কতটা খুলে বলতে পারতেন? উত্তরে সৌরভের সোজাসাপটা জবাব, তিনি সম্ভবত কনফেস করতে পারতেন না। কারণ ফোন ছাড়া থাকা তাঁর পক্ষে কঠিন। আর যদি কাউকে নমিনেট করার সুযোগ পেতেন, তাহলে কোনও এক ক্রিকেট সতীর্থকেই বেছে নিতেন বলে জানান তিনি।
‘বিগ বস বাংলা’র এবারের টাইটেল ট্র্যাকেও রয়েছে বিশেষ চমক। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘করব দুর্গ জয় অত সহজ নয়’ গানটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। গানটির কথা লিখেছেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় এবং সুর দিয়েছেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ভবিষ্যতে এই গানটি মিউজিক ভিডিও হিসেবেও প্রকাশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। দশ বছর আগে বাংলায় এই রিয়ালিটি শোয়ের পথচলা শুরু হয়েছিল। এত বছর পর নতুন অবতার, নতুন প্রতিযোগী এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় ‘বিগ বস বাংলা’ কতটা দর্শক টানতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
