
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরের কড়া অভিযানের জেরে রেস্তরাঁ মালিকদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মুম্বইয়ের বিভিন্ন রেস্তরাঁয় এখন চোখে পড়ছে FSSAI লাইসেন্সের সার্টিফিকেট। কোথাও চলছে গভীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, আবার কোথাও খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরের প্রাক্তন আধিকারিকদের দিয়ে করানো হচ্ছে ‘মক অডিট’। এই গোটা পরিস্থিতির নেপথ্যে মহারাষ্ট্রের FDA কমিশনার তুকারাম মুন্ধের কড়া অভিযান। তাঁর অভিযানের প্রভাবই এখন পরিচিত হচ্ছে ‘মুন্ধে এফেক্ট’ নামে। মহারাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এই অভিযান নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় ‘মুন্ধে এফেক্ট’ নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ও লেখিকা টুইঙ্কেল খান্না। ‘মিসেস ফানিবোনস’ কলামে নিজের রান্নাঘরেই ‘রেইড’ চালানোর মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি।
টুইঙ্কেলের দাবি, ‘মিস্টার মুন্ধের অনুপ্রেরণায় আমি আমার রান্নাঘরে একটি অভিযান চালাই। সেখানে একটি শাহী মশলার প্যাকেট পেলাম। যার মেয়াদ শেষ হয়েছিল মুঘল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তির সময়ে। যাঁরা ইতিহাসের পাতা থেকে মুঘলদের মুছে ফেলতে চান তাঁদের মধ্যাহ্নভোজ দিয়ে দিন শুরু করা উচিত। কোফতা, কোরমা, কাবাব সব ছেড়ে দেওয়া উচিত। এগুলোর প্রত্যেকটির সঙ্গেই মুঘল প্রভাব জড়িয়ে আছে।’ তবে শুধু মেয়াদ-উত্তীর্ণ মশলা নয়, খাদ্যে ভেজাল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টুইঙ্কেল। নকল পনির নিয়ে বিতর্কের পর তিনি এবং তাঁর মা, অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া, বাড়িতেই পনির তৈরি করা শুরু করেছেন। আর সেখানেও শুরু হয়েছে মা-মেয়ের মজার প্রতিযোগিতা।

টুইঙ্কেল জানিয়েছেন, তাঁর মায়ের ক্ষেত্রে এক লিটার দুধ থেকে প্রায় ২৫০ গ্রাম পনির তৈরি হয়। অথচ একই পরিমাণ দুধ থেকে তাঁর পনির হয় প্রায় ১৮০ গ্রাম। এখন শুধু পরিমাণ নয়, কার তৈরি পনির বেশি সুস্বাদু—তা নিয়েও চলছে প্রতিযোগিতা। এমনকী ভবিষ্যতে কার পনির বেশি সাদা, সেই নিয়েও প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে বলে মজা করেছেন তিনি। নিজের পনিরকে বেশি সাদা করার প্রসঙ্গে টুইঙ্কেলের রসিক মন্তব্য, প্রতিযোগিতা বেশি বাড়লে তিনি হয়তো পনিরে ডিটারজেন্ট মেশানোর কথাও ভাবতে পারেন!
এর পাশাপাশি কটন ক্যান্ডির প্রসঙ্গও টেনে আনেন অভিনেত্রী। ছোটবেলায় গোলাপি রঙের কটন ক্যান্ডি খাওয়ার স্মৃতি উল্লেখ করে তাঁর দাবি, বর্তমানে সেই গোলাপি রং তাঁর চুলের টাচ-আপের সময় বেশি দেখা যায়। রসিকতার সুরে তিনি এই পরিবর্তনের জন্যও FDA কমিশনার তুকারাম মুন্ধেকে দায়ী করেছেন। মুন্ধের অভিযানে একের পর এক রেস্তরাঁ বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে টুইঙ্কেল লেখেন, এমনকী ডমিনোজও এর প্রভাব থেকে বাদ যায়নি। তাঁর কথায়, মুন্ধে যেখানে যান, সেখানেই যেন ‘মুন্ডি’ গড়াগড়ি খায়। রসিকতার মোড়কে টুইঙ্কেলের এই লেখা মূলত খাদ্যপণ্যের গুণগত মান, ভেজাল এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগকেই সামনে এনেছে। একইসঙ্গে তুকারাম মুন্ধের কড়া অভিযানের প্রভাব নিয়েও তৈরি হয়েছে তাঁর নিজস্ব ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য।
