
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন গ্রেটার নয়ডার নির্বাহী জেলাশাসক। গত জুলাইয়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ছাত্রকে জবাবদিহির নোটিস পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই ছাত্রকে নোটিস পাঠানো হল? আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তাহলে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কোন সাহসে জেলাশাসক ওই ছাত্রকে জবাবদিহির নোটিস পাঠালেন, তা নিয়েই এদিন তীব্র প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত।
দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এই নোটিস জারি করতে পারলেন? আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, সারা দেশের কোনও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর বা দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের এমন দুঃসাহস হয় কী করে?” বুধবার শীর্ষ আদালতে প্রবীণ আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য মৌখিকভাবে জেলাশাসকের নোটিস পাঠানোর বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চকে জানান, গ্রেটার নয়ডার একজন নির্বাহী জেলাশাসক গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে নোটিস পাঠান। ওই নোটিসে অক্ষতকে সিজেপির আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। এইসঙ্গে ৫ লক্ষ টাকার বন্ড জমা দিতেও বলা হয়। যদিও পরবর্তীকালে সেই নোটিস প্রত্যাহার করা হয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও জেলাশাসক নোটিস জারি করায় আদালত ‘বিস্মিত’। “আমাদের যুবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমরা একটি স্পষ্ট আদেশ দিয়েছিলাম।” প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলে। আদালত আরও জানিয়েছে, এই বিষয়ে গ্রেটার নয়ডা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
