
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বসতে চলেছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। তার ঠিক আগের দিন, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং কৌশলগত সহযোগিতা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ব্রিকস সম্মেলনের আগে দিল্লির মাটিতে মোদি-পুতিনের এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে ভারত-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার এই বার্তা নিয়ে ‘শঙ্কিত’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেই দাবি সূত্রের।
জানা যাচ্ছে, এবারের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বড় কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে পারে। অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে পারে পঞ্চম প্রজন্মের রুশ যুদ্ধবিমান সু-৫৭। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বর্তমানে নয়াদিল্লি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের সন্ধানে রয়েছে। তবে শুধু বিক্রি নয়, পঞ্চম প্রজন্মের স্টেল্থ ফাইটার জেট সু-৫৭-৫৭-র যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরেও প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। বলে রাখা ভালো, রাশিয়ার সুখোই ডিজাইন ব্যুরোর সু-৫৭ যুদ্ধবিমান আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতেও দিন-রাত সর্বক্ষণ যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে এই বিমান। সেই সঙ্গেই কম দৃশ্যমানতাতেও সমান কর্মক্ষম পঞ্চম প্রযুক্তির এই বিমান। এমন বিমান ভারতের ভাঁড়ারে এলে যে চিন-পাকিস্তানের ঘুম ছুটবে, তাতে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞ মহল। এদিকে দিল্লি যদি রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনে, তাহলে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। সে ক্ষেত্রে ভারতে মার্কিন সংস্থাগুলির ভূমিকা কমবে।
অন্যদিকে, ক্রেমলিমের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের দাবি করেছেন, রাশিয়ার সহায়তায় ভারতে নয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও অসামরিক পরমাণুক্ষেত্রের সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও আলোচনা হবে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। এছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধ আবহে রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ট্রাম্পের ‘শুল্কবাণ’ প্রসঙ্গেও মোদি-পুতিনের আলোচনা হতে পারে। গোটা বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কিত ট্রাম্প।
