
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ও তাঁর স্বামী পিটার হাগের পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবার আইনি লড়াইয়ের নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগে পিটারের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে FIR দায়ের করেছিলেন সেলিনা।এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সেলিনাকে দু’টি পৃথক আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন পিটার হাগ এবং তাঁর বাবা ডিআই উলফগ্যাং জে হাগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুম্বইয়ের ল’ ফার্ম ‘সেমওয়াল অ্যান্ড কোং’ (Semwal & Co.)-এর মাধ্যমে পাঠানো এই নোটিসে সেলিনার বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো এবং ইন্টারনেটে ভুয়ো ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে সমস্ত কন্টেন্ট মুছে ফেলে প্রকাশ্যে, নিঃশর্ত ক্ষমার দাবিও জানানো হয়েছে পিটারের পরিবারের পক্ষ থেকে। পিটারের আইনি দলের দাবি, সেলিনা ও পিটারের বিবাহবিচ্ছেদ এবং তিন সন্তানের কাস্টডির মামলাটি বর্তমানে অস্ট্রিয়ার (Austria) আদালতে বিচারাধীন (Sub judice)। তা সত্ত্বেও সেলিনা লাগাতার বিভিন্ন ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পিটার ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করে চলেছেন।
পিটারের আইনজীবী ইয়েশা শাহ এই প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করে বলেন, ‘নারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি আইন সভ্য সমাজের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু যখন কোনও পারিবারিক বিবাদকে যাচাই না করে ইমোশনাল ন্যারেটিভের মাধ্যমে তা পাবলিক মিডিয়া ট্রায়ালের রূপ দেওয়া হয়, তখন আইনের অপব্যবহার করা হয়। আইনকে কারও সম্মানহানির অস্ত্র করা উচিত নয়।’ পিটারদের দাবি, সেলিনা তাঁদের ‘অত্যাচারী’, ‘হিংস্র’ এবং ‘প্রতারক’ হিসেবে বর্ণনা করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ (BNS)-এর ধারা ৩৫৬ অনুযায়ী মানহানি করেছেন।
পিটারের পরিবারের প্রধান আপত্তি তাঁদের তিন নাবালক সন্তানকে নিয়ে। নোটিসে বলা হয়েছে, সেলিনা সোশ্যাল মিডিয়ায় বাচ্চাদের নাম, ছবি এবং সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে তাদের অনাবশ্যক লাইমলাইটে নিয়ে আসছেন, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। অস্ট্রিয়ার আদালতে কাস্টডি মামলা চলাকালীন এই ধরণের সমান্তরাল মিডিয়া ট্রায়াল অবিলম্বে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এই আইনি নোটিসের পটভূমি তৈরি হয়েছিল এই মাসের শুরুতেই, যখন সেলিনা জেটলি মুম্বইয়ের ভার্সোভা থানায় পিটারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, শারীরিক নির্যাতন এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগে একটি FIR দায়ের করেন। তদন্তে সহযোগিতা না করায় মুম্বই পুলিশ পিটারের বিরুদ্ধে একটি লুক আউট সার্কুলারও (LOC) জারি করে।
