
হাওড়া, ২১ মে : বৃহস্পতিবার বেলুড় মঠে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম বেলুড় মঠে আসেন তিনি। বৃহস্পতিবার মঠে পৌঁছে প্রথমে মূল রামকৃষ্ণ মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পরে স্বামী বিবেকানন্দের ঘরে প্রণাম করে স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির, সারদাদেবীর মন্দির দর্শন করে তিনি যান রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। মুখ্যমন্ত্রীকে মঠের প্রবেশদ্বারে মহাসমারোহে স্বাগত জানান প্রবীণ সন্ন্যাসীরা। মঠে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দকে প্রণাম নিবেদন করে আশীর্বাদ নেন এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত - উভয় দিক থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম মঠ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
বৃহস্পতিবার সকালে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বেলুড় মঠে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি প্রথমে যান মূল শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরে। সেখানে পরম নিষ্ঠার সঙ্গে আরতি দর্শন করেন এবং পুজো দেন। এরপর স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঘরে গিয়ে প্রণাম জানান তিনি। সেখান থেকে ক্রমান্বয়ে স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির এবং শ্রীশ্রী মা সারদাদেবীর মন্দিরে গিয়ে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম নিবেদন করেন। সবশেষে তিনি মঠের প্রেসিডেন্টের ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ একান্তে সময় কাটান এবং আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
এদিকে সকাল থেকেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে অত্যন্ত কাছ থেকে একনজর দেখার জন্য বেলুড় মঠ চত্বরে সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে। মঠের নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখেই এখানেও শুভেন্দুকে দেখে জয়ধ্বনি দেন অনুগামীরা। মুখ্যমন্ত্রীও হাতজোড় করে স্মিতমুখে সকলকে নমস্কার জানান। বেলুড় মঠের এই পবিত্র সফর শেষ করে তিনি সোজা রওনা দেন হাওড়া শরৎ সদনের উদ্দেশ্যে, যেখানে জেলা স্তরের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে আজ তাঁর এক মেগা প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে শুধু বেলুড় মঠ দর্শন বা হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকছে না মুখ্যমন্ত্রীর আজকের সফর। হাওড়ার বৈঠক সেরেই আজ সরাসরি দেশের রাজধানী দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ক্ষমতার মেগা পরিবর্তনের পর খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম তড়িঘড়ি দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তীব্র জল্পনা ও পারদ চড়তে শুরু করেছে।
