West Bengal

1 month ago

Kakoli Ghosh Dastidar : চার দশকের আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ পেলেন না, লোকসভায় পদচ্যুত হয়ে বিস্ফোরক কাকলি

Kakoli Ghosh Dastidar
Kakoli Ghosh Dastidar

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহেই দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি তাঁকে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কাকলি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা দলীয় অস্বস্তি আরও বাড়াল।

তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের অতীত মনে করিয়ে চারবারের সাংসদ কাকলি কটাক্ষের লিখলেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।’ কোনও বিষয় উল্লেখ না করলেও তিনি যে ওই পুরস্কারের প্রসঙ্গ তুলে দলকেই কটাক্ষ করেছেন, সেটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না। দিন কয়েক আগে ভোটে হারের পর দলের ‘নিস্ক্রিয়তা’ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় দলকে কটাক্ষ করেছিলেন কাকলির ছেলেও। এবার বারাসতের সাংসদ নিজেই বিঁধলেন দলকে।

আসলে ছাব্বিশের ভোটে উত্তর ২৪ পরগনার মতো শক্ত গড়েও তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আশাপ্রদ হয়নি। ৩৩টির মধ্যে মাত্র ৯টি আসন এসেছে ঘাসফুলের দখলে। বারাসত-সহ আশপাশের বেশিরভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হয়েছে। এরপরই দলের তরফে বারাসতের সাংসদের ডানা ছাঁটা হয়। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বদলে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদে ফিরিয়ে আনা হবে বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনিই চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলাবেন।

চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিয়াল্লিশের মধ্যে ২৯ টি আসন জয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় দল সাজিয়ে দিয়েছিলেন। মুখ্য সচেতক করা হয়েছিল বর্ষীয়ান সাংসদ এবং দলের বহু পুরনো নেতা, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। লোকসভার দলনেতা ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৫ সালে সংসদীয় দলে রদবদল করা হয়। দলনেতার দায়িত্ব পান ডায়মন্ড হারবারের তিনবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য সচেতক পদে কল্যাণের পদে বসানো হয় বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। ছাব্বিশে ভরাডুবির পর ফের কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে ওই পদে আনা হল, তাতেই সম্ভবত ক্ষুব্ধ বর্ষীয়ান সাংসদ।

You might also like!