West Bengal

1 hour ago

Suvendu Adhikari-Kunal Ghosh : ‘প্রথম দিন থেকেই সমালোচনা ঠিক নয়’, শুভেন্দু সরকার নিয়ে কুণালের মন্তব্য

Suvendu Adhikari-Kunal Ghosh
Suvendu Adhikari-Kunal Ghosh

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন পেয়ে বিরোধী আসনে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মধ্যে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি বিরোধিতার পথে হাঁটতে নারাজ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। সরকারের সিদ্ধান্তের ভালো-মন্দ দিক বিচার করেই বিরোধিতা করা প্রয়োজন বলে মত তাঁর।

বৃহস্পতিবার ছিল কলকাতার বিধায়কদের শপথগ্রহণ। শপথ নিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অনুষ্ঠান শেষে বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেসময় বেরচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। সৌজন্য বিনিময় হয় দু’জনের মধ্যে। সূত্রের খবর, তাঁকে দেখে শুভেন্দু বলেন, ”কী, জিতে গেলেন তো?” এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কুণাল ঘোষ, তিনিও জবাব দেন, ”হ্যাঁ জিতে গেলাম”।

এরপরই কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘এই ভোট নিয়ে, ইভিএম নিয়ে, ভোটের ফলাফলের দিন যা যা ঘটেছে গণনাকেন্দ্রগুলিতে, তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। কিন্তু সরকার নতুন তৈরি হয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন দায়িত্বে। একটু সময় দিতে হবে। প্রথমদিন থেকে সরকারের বিরোধিতা করলে সেটা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচকও হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে। সেসব দেখে যেখানে বিরোধিতা করার, করতে হবে। কিন্তু এখনই নয়, তাতে জনতার কাছে ভুল বার্তা যাবে।”

সামগ্রিকভাবে এদিন বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ অনুষ্ঠানে রীতিমতো সৌজন্যের নজির দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার তৃণমূল বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বিধানসভায় প্রবেশের সময় দেখা হয় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন দিব্যেন্দু। তাতে শোভনদেব বলেন, ‘‘এদের শিষ্টাচার আছে।” এছাড়া পরেও দিব্যেন্দুকে দেখা যায় বিধানসভার মুখ্য সচেতক ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও  হেসে কথা বলতে দেখা যায়। এদিন বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষও সৌজন্য বিনিময় করেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে। 

দ্বিতীয়বারের বিধায়ক। ফলে শপথবাক্য পাঠ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু বুধবার বিধানসভায় বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করতে গিয়েও বারবার হোঁচট খেলেন সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। একাধিক শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হল তাঁকে। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই শপথবাক্য পাঠের ভিডিও। যা দেখে হেসে খুন নেটপাড়া। 

মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত বিড়ি শিল্পপতি বাবর আলির বড় ছেলে বায়রন বিশ্বাস। বাবর আলি একসময় সিপিএম করতেন। পরে যদিও রাজনীতি থেকে সরে আসেন। মন দেন ব্যবসায়। হয়ে ওঠেন বিড়ি শিল্পপতি। এরপর চায়ের ব্যবসা শুরু করেন। ইংরাজি মাধ্যম স্কুল এবং বেসরকারি হাসপাতাল খোলেন।  পড়াশোনা শেষ হতেই বাবার ব্যবসায় নজর দেন বায়রন। কয়েকবছর আগে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তাঁর। ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে বাম ও কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন বায়রন। জিতেও যান। তার ঠিক তিনমাসের মাথায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন বায়রন। ছাব্বিশেও তাঁর উপর ভরসা করেছিল দল। ভোট পর্বে একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেও জয়ী হয়েছেন তিনি। 

গতকাল অর্থাৎ বুধবার বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। স্বাভাবিকভাবেই বায়রনও সেখানে ছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল বায়রনের সেই শপথবাক্য পাঠের ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে ভুল করে তিনি এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ারের দিকে। এরপর শপথবাক্য পড়তে গিয়ে নাস্তানাবুদ অবস্থা বায়রনের। একাধিক শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন তিনি। শত চেষ্টাতেও সঠিকভাবে পড়ে উঠতে পারলেন না ‘আনুগত্যে’র মতো শব্দ। বিধায়কের এই কাণ্ড দেখে কমেন্টে কটাক্ষের বন্যা। অধিকাংশই লিখেছেন, ‘জনপ্রতিনিধি কিন্তু বাংলাটাও পড়তে পারেন না!’  

You might also like!