kolkata

1 hour ago

Akhilesh meets Mamata: ‘বাংলাতেও উত্তরপ্রদেশের মডেলে ভোট হয়েছে’, কালীঘাটে মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক অখিলেশ

Akhilesh Yadav meets Mamata, Abhishek Banerjee in Kolkata
Akhilesh Yadav meets Mamata, Abhishek Banerjee in Kolkata

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতির আবহ। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। অখিলেশের দাবি, উত্তরপ্রদেশের মতো বাংলাতেও ভয় দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন,“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারেননি, তাঁকে হারানো হয়েছে।”

সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের পতন ঘটে। বিজেপির বিপুল জয়ের পর থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন অখিলেশ যাদব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ও। প্রথমেই নির্বাচনে ভালো লড়াই করার জন্য অভিষেককে শুভেচ্ছা জানান সমাজবাদী পার্টি প্রধান। পরে মমতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি হারেননি। গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই এখনও শেষ হয়নি।”

অখিলেশের অভিযোগ, বাংলার নির্বাচনে বহুস্তরীয় কারচুপি হয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের একাংশ একযোগে কাজ করে ভোট প্রভাবিত করেছে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন,“বাংলার নির্বাচনে বেইমানি হয়েছে। এইবারের নির্বাচনে মাল্টি লেয়ার মাফিয়াগিরি হয়েছে। বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, আন্ডারগ্রাউন্ডের লোকজন মিলে এই নির্বাচন করিয়েছে। নির্বাচনে লুট করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিরোধীকে হারানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের উঁচু পদের লোভ দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে।” বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ দাবি করেন, বাংলাতেও একই কায়দায় ভোট হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদের বুথ থেকে সরিয়ে দেওয়া, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং প্রশাসনিক যন্ত্রকে ব্যবহার করার মতো ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের সামনে তিনি কয়েকটি ছবি ও তথ্যও তুলে ধরেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “যেখানে বিরোধী এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে বুথ থেকে দূরে রাখা হয়েছে, সেখানে বিজেপির জয়ের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি।” এদিন ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান। তিনি বলেন, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-র নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মহিলা-বিরোধী মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করে এবং বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বুধবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনাও উঠে আসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। সেই প্রসঙ্গে অখিলেশ বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দায় এড়াতে পারেন না। তাঁর দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও হিংসার আবহ তৈরি হওয়ার পিছনে কেন্দ্রীয় রাজনীতির ভূমিকা রয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করে আসছেন, এই ফল জনগণের প্রকৃত রায় নয়। কারচুপি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে ও তাঁর দলকে হারানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত সেই পদক্ষেপ করেননি তিনি। কালীঘাটে গিয়ে কার্যত মমতার সেই দাবিকেই সমর্থন জানালেন অখিলেশ যাদব। তাঁর বক্তব্য, “গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছি।” এই বৈঠক ও মন্তব্যকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলির মধ্যে ভবিষ্যতের বৃহত্তর সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। 

You might also like!