
জবলপুর, ৫ মে : মধ্যপ্রদেশের জবলপুর শহরের কাটঙ্গি বাইপাস সংলগ্ন একটি লজিস্টিক পার্কে (ওয়্যার হাউস) সোমবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র ছিল যে, কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও তা দেখা যাচ্ছিল। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। এই অগ্নিকাণ্ডে লজিস্টিক পার্কের তিনটি গুদাম পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে, যাতে মজুত থাকা প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল এবং সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০:৩০ থেকে ১১টার মধ্যে আগুন লাগে। 'এশিয়ান পেন্ট'-এর একজন সুপারভাইজার প্রথম আগুন দেখে দমকল বিভাগে খবর দেন। খবর পেয়ে জবলপুর পুরনিগম এবং দমকল ব্রিগেডের প্রায় ১০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। গভীর রাতে আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে। জানা গিয়েছে, গুদামগুলিতে বিপুল পরিমাণ চাল, গম, ডাল এবং ভোজ্য তেলের পাশাপাশি এফএমসিজি সামগ্রী রাখা ছিল। ভোজ্য তেল থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশের তিনটি গুদামকেও গ্রাস করে। পার্সেল করার জন্য রাখা মালপত্রও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এই লজিস্টিক গুদামটি সিদ্ধার্থ মেহতা নামে এক ব্যক্তির বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। একটি স্ফুলিঙ্গ থেকেই মুহূর্তের মধ্যে পুরো গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাঢ়োতাল থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে। লজিস্টিক পার্কের ম্যানেজার সাকেত সিং জানান, পানগর তহশিলের পাড়ওয়ার কালা এলাকায় অবস্থিত তাঁদের গুদামে অজ্ঞাত কারণে আগুন লাগে। জবলপুর পুরনিগমের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের দমকল বাহিনীও আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সময় গুদামে কোনো কর্মচারী আটকে ছিলেন কি না বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পুলিশ ও প্রশাসনিক দল ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
