
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আশাতীত সাফল্যের পর দেশজুড়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে বিজেপি শিবির। সেই আবহেই সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির দলীয় সদর দপ্তরে এক ভিন্ন রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘিয়ে রঙের তসর সিল্কের পাঞ্জাবি, সঙ্গে কোঁচা দেওয়া ধুতি, গলায় উত্তরীয়—পুরোদস্তুর বাঙালি বাবুর বেশে মঞ্চে ওঠেন তিনি। তাঁর এই রূপ যেন বাংলার প্রতি বিশেষ সম্মান এবং আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ। যদিও কোঁচা সামলে হাঁটতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল, তবুও মুখে ছিল স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস আর জয়ের হাসি।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর দলের কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শকাসনের প্রথম সারিতে আবিরে রাঙা মুখে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতা, তাঁদের মধ্যে শমীক ভট্টাচার্যও ছিলেন অন্যতম। তাঁদের সামনেই প্রধানমন্ত্রী দলের কর্মীদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন এবং এই সাফল্যের নেপথ্যে তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন।
ভাষণে মোদী বলেন,'দীর্ঘদিনের সাধনা যখন সিদ্ধ হয়, তখন যে খুশি আসে, তা আজ দেশের সকল বিজেপি সমর্থকের মুখে দেখছি। আমিও তাদের খুশিতে সামিল। আজকের দিন দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ঘোষণার দিন, ভরসার দিন। আমি বাংলা, অসম, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও কেরালার জনতাকে প্রণাম জানাই। BJP-র কোটি-কোটি কার্যকর্তাকে হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা নতুন ইতিহাস রচনা করলেন।' প্রধানমন্ত্রী তাঁর আগের এক মন্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি বলেছিলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পদ্ম ফুটবে। সেই ভবিষ্যদ্বাণীই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিহার এবং ওড়িশার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির ক্ষমতায় আসা তাঁর সেই বক্তব্যকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে যে পরিবর্তনের সূচনা হল, তা ভবিষ্যতে রাজ্যের শাসনব্যবস্থা এবং উন্নয়নের গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও জোর চর্চা চলছে। তবে আপাতত বিজেপি শিবিরে উৎসবের আবহ, আর সেই আবহেই বাঙালি বেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতি যেন এই জয়ের আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
Victory Celebrations at BJP HQ, New Delhi. #ElectionResult2026 https://t.co/pBfn2ZthCR
— BJP (@BJP4India) May 4, 2026
