West Bengal

44 minutes ago

Suvendu Adhikari : সরকারি আধিকারিকদের জন্য নতুন নিয়ম, সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় কড়াকড়ি নবান্নের

Suvendu Adhikari
Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রশাসনিক নির্দেশিকায় সরকারি আধিকারিকদের ওপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমে কোনও ধরনের মন্তব্য করা, সরকারি নথি বা তথ্য বাইরে প্রকাশ করা এবং বিভিন্ন মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এবার থেকে কঠোর বিধিনিষেধ মানতে হবে। প্রশাসনের তরফে এই পদক্ষেপকে শৃঙ্খলা ও তথ্য নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের জারি করা নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সার্কুলার অধীনস্থ সমস্ত অফিসে দ্রুত প্রচার করতে হবে এবং কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ এবং প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা জারি করার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এ ভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারি আধিকারিক তথা কর্মচারীদের যোগাযোগের উপর কড়া নজরদারির বন্দোবস্ত করল রাজ্য সরকার।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আইএএস, ডবলিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস (ডাবলুবিপিএস)-এর আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি ভাবে তৈরি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কোনও সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র তুলে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মচারী সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখা লিখতে পারবেন না, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা বা পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না। রেডিয়ো বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমেও বক্তব্য পেশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কোনও বক্তব্য বা প্রকাশনা যদি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তা শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জনসমক্ষে মত প্রকাশের ক্ষেত্র আরও সীমাবদ্ধ করা হল। যদিও সরকারের একাংশের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি কঠোর ভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনও কর্মচারী এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এবার সরকারি কেনাকাটাতেও নতুন নির্দেশিকা জারি করল অর্থদপ্তর। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসকে এবার থেকে কেন্দ্রীয় সতর্কতা কমিশন (সিভিসি)-এর জারি করা প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকা এবং গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। সরকারি কেনাকাটায় আরও স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা আনতেই এহেন পদক্ষেপ বলেই জানানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে অর্থ দপ্তরের তরফে এহেন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কেনাকাটার নীতি আগে থেকেই বিভিন্ন আর্থিক বিধি ও নির্দেশিকার মাধ্যমে নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি পণ্য, পরিষেবা ও নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে সময় সময় একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জিইএম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও কেনাকাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।এবার সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সতর্কতা কমিশনের জারি করা নিয়ম এবং নির্দেশিকা অনুসরণের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এর ফলে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। নতুন এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। 

You might also like!