
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের উপর কড়া নজরদারির মধ্যেই একটি মালবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করল আমেরিকা। মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযোগ, সন্দেহজনকভাবে ইরানের একটি বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল জাহাজটি এবং বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়।এরপর জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে দাবি মার্কিন সেনার। হামলায় জাহাজটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আমেরিকান সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, মালবাহী জাহাজটির নাম ‘লিয়ান স্টার’। তাতে গাম্বিয়ার পতাকা লাগানো ছিল। তবে তাতে কী ধরনের পণ্য ছিল তা জানা যায়নি। ওমান উপসাগর হয়ে ইরানের বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল জাহাজটি। তখনই নজরে পড়ে সেন্টকমের। সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠায় আমেরিকান সেনা। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা যেন ইরানের দিকে না যায়।
পণ্যবাহী জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছে প্রায় ২০ বার সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে আমেরিকান সেনা। কিন্তু সেই সব উপেক্ষা করেই ধীরে ধীরে ইরানের বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল জাহাজটি। তখনই হেলফায়ার মিসাইল ছোড়ে আমেরিকান সেনা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় জাহাজের ইঞ্জিন রুম। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে জাহাজটি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকান সেনা জাহাজের দখল নেয়নি। সেটি ওমান উপসাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
এপ্রিলে ইরানের বন্দর অবরোধ শুরু হওয়ার পরে এই নিয়ে মোট ৬টি জাহাজ আটকাল আমেরিকা। এর মধ্যে একটি জাহাজকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়ছে। একই সঙ্গে ১১৬টিরও বেশি জাহাজকে গন্তব্য পরিবর্তনে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি করেছে আমেরিকান সেনা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করেই এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।
অন্য দিকে, হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, ইরান-সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তাঁর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই বৈঠকেই তিনি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবেন। তবে তিনি কী সিদ্ধান্ত নিলেন তা এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বাজেয়াপ্ত করা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি খসড়াও তৈরি করেছে ইরান ও আমেরিকা। তাতে বলা হয়েছে, চুক্তি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে ওই অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। তারা নিজেদের পছন্দের ব্যাঙ্কের মাধ্যমে তা খরচও করতে পারবে।
