
তেহরান, ১৬ জুলাই : ইরানে একটি শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালাল মার্কিন সেনা। ইরানির এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে আহওয়াজ শহরের ‘শহিদ বাঘাই’ নামে শিশুদের একটি ক্যানসার হাসপাতালে পরপর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আমেরিকা। হামলার সময় হাসপাতালটিতে বহু শিশুর চিকিৎসা চলছিল। এই ঘটনায় চরম হুলস্থুল পড়ে যায় এবং তড়িঘড়ি হাসপাতালটি খালি করা হয়। হামলায় হাসপাতালের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও সৌভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত কোনও শিশু বা রোগীর হতাহতের খবর মেলেনি।
হাসপাতালে হামলার পাশাপাশি বুধবার রাতে কেঁপে ওঠে ইরানের একাধিক বন্দর শহর। কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক, রাস্ক সিটি এবং খন্দবের মতো উপকূলবর্তী এলাকায় পরপর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তেহরানের দাবি, মার্কিন হামলায় ইরানের সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বন্দর শহরগুলির বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে।
এদিকে মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতি জারি করে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ফের বাধা সৃষ্টি করছিল ইরানি সেনা এবং আমেরিকার তৈরি করা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা হচ্ছিল। তাই ইরানকে শিক্ষা দিতেই হরমুজ সংলগ্ন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। এই অভিযানে একটি ইরানি ট্যাঙ্কারও গুলি করে ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।
পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডও জানিয়েছে, আমেরিকার এই ‘রক্তচক্ষু’ তারা পরোয়া করে না। মার্কিন আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিগুলিতেও পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
