
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ৩২ হাজার ‘বেনাগরিক’ ভোটারকে ঢাল করে ফের ‘আক্রান্ত’ কার্ড মমতার। নির্বাচন কমিশন ৬০ লক্ষ বিচারাধীন নামের নিষ্পত্তি করার পর দেখা গিয়েছে ৩২ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে। বুধবার আলিপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই এই ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের হয়ে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৩২ হাজার ভোটারের ইস্যুকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রান্তিক এবং সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে ‘অনিরাপত্তা’র বোধ জাগ্রত করে ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিতে চাইছেন। ‘সবাইকে পাশে পাব’—এই বার্তা দিয়ে তিনি আবারও আইনি লড়াইয়ের রণহুঙ্কার দিলেন।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্যজুড়ে ঝোড়ো প্রচার করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বুধবারও একাধিক জায়গায় প্রচার রয়েছে। তার আগে এদিন সকালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেশ করেন তৃণমূলনেত্রী। সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে ফের একবার এসআইআর ইস্যুতে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ”দুঃখ নিয়ে বলছি, এত মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাও সুপ্রিম কোর্টে আমি মামলা করায় ১ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম উঠেছে। কিন্তু ৫৮ লক্ষ খোলাই হয়নি।”
শুধু তাই নয়, এই প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, ”অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের নাম তোলা উচিত বলে মনে করি। এটা সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল।” কিন্তু এরমধ্যেই তালিকা কেন ফ্রিজ করে দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলনেত্রী। আর এর বিরুদ্ধেই ফের একবার আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান তিনি। মমতার কথায়, ‘ট্রাইবুনাল চলার সময়ে ভোটার তালিকায় ফ্রিজ করে দেওয়ার মানে কী? পরে নাম তুলে কী হবে। ভোটটা তো দিতেই পারবেন না। আমরা আবার আদালতে যাব, বিচার চাইব।”বাংলায় এসআইআর নিয়ে ভোটের আগেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন। এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি, বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে ‘বাঘিনী’ হিসাবে যেভাবে বক্তব্য রেখেছিল, তা গোটা দেশ সাক্ষী থেকেছিল। ফের কি এই ছবি দেখবে দেশ তথা বাংলার মানুষ? মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তৈরি হয়েছে সেই জল্পনা।
