
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তদন্তে উঠে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দাদের দাবি, বাংলায় হানিট্র্যাপের জন্য একটি মহিলা নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। সেই উদ্দেশ্যে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সুন্দরী ও উঠতি মডেলদের টার্গেট করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, রাজ্যের অন্তত ছয় জন মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই কাজে অর্পিতা সরকার ছাড়াও আরও কোনও মহিলাকে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জঙ্গি চক্রের এই সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজতেই এখন তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গোয়েন্দাদের কাছে খবর, মডেলিং আর অভিনয়ের টোপ দিয়েই ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকারকে দলে টেনেছিল হামিম মণ্ডল। হানিট্র্যাপের কাজ করলে অর্পিতা অনেক বেশি টাকা রোজগার করতে পারবে বলে তাকে বোঝায় হামিম। কীভাবে অর্পিতা হানিট্র্যাপ করে হাওড়ার মন্ত্রীর পুত্রকে ফাঁসিয়ে তোলাবাজি করবে, সেই ব্যাপারে তাকে পাকিস্তান থেকে সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, আরও কতজনকে হানিট্র্যাপের জালে ফাঁসানো হয়েছে। গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী শেহজাদ ভাট্টি ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের মাথারা এই রাজ্যে মহিলা গ্যাং তৈরি করতে শুরু করেছে। তার জন্য সোশাল মিডিয়ায় আসা সুন্দরী ও উঠতি মডেলদেরই টার্গেট করছে তারা।
হামিম মণ্ডলের মতো জঙ্গি এজেন্টদের কাজে লাগানো হচ্ছে এই কাজে। পাকিস্তানের নির্দেশ, সুন্দরী যুবতী ও তরুণীদের সঙ্গে প্রথমে সোশাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব করতে হবে। তার পর তাদের সঙ্গে দেখা করে ঘনিষ্ঠ হতে হবে। প্রয়োজনে বিয়ের প্রস্তাবও দিতে হবে। এর পর তাদের কাজে লাগানো হবে হানিট্র্যাপে। সেই নির্দেশমতোই হামিম ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে কাজে লাগিয়েছিল হানিটট্র্যাপে। প্রায় চার মাস ধরে অর্পিতা হাওড়ার মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তাঁর থেকে টাকা হাতানোর ছক কষছিল। এর পর মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণেরও ছক কষা হয়েছিল।
