
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কেএমডিএ-র আবাসন প্রকল্প ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। ভাঙাচোরা বসতির বদলে নতুন ঘর তৈরির কাজ চললেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেওয়া ঘরগুলি বসবাসের উপযোগী নয়। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন স্থানীয় বিধায়ক Kunal Ghosh দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন, তখন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে প্রতিবাদ দেখান।ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও। এর জেরে রাত পর্যন্ত তিনি পার্টি অফিসে আটকে ছিলেন। সোমবার সকালে কেএমডিএ-র ওই নির্মাণকাজের ছবি পোস্ট করে কুণাল ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘মানুষের উপকার করা, এলাকা ঢেলে সাজানো নিশ্চয়ই অপরাধ নয়।’
এলাকার একটি পুরনো আবাসন একেবারে ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা ছিল। সাধারণের জন্য ব্যবহৃত শৌচালয় নিয়েও ছিল সমস্যা। প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে যে কোনও সময় আবাসনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। কোনওক্রমে মেরামত করেও সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। বাসিন্দারা তীব্র সমস্যায় ছিলেন। এনিয়ে ২০১০ সাল থেকে কেএমডিএ-র সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলেন কুণাল ঘোষ। পরে সেই কাজে তৎপর হন স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী। এসবের জেরে নতুন আবাসন তৈরির উদ্যোগ নেয় কেএমডিএ। ঠিক হয়, ওই আবাসনের নানা ব্লক ভেঙে বিনামূল্যে দেওয়া হবে টু রুম অ্যাটাচ বাথ ফ্ল্যাট। সেইমতো একেকটি ব্লক অনুযায়ী নতুন ফ্ল্যাট গড়ে তা বাসিন্দাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে থাকা যায় না, এতটাই তা ছোট। কারও কারও অভিযোগ, তাঁরা এখনও ফ্ল্যাট পাননি।
এই নিয়েই রবিবার রাতে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তিনি সমস্যা শুনে কেএমডিএ-র আধিকারিকদের ফোনে তা জানান। কেএমডিএ-র তরফে বলা হয়, কিছু সমস্যার কারণ বিষয়টি থমকে রয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। তাতে পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় পার্টি অফিসে বেশ রাত পর্যন্ত আটকে থাকতে হয় বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। তিনি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, পরে বিজেপিরই একাংশ তাঁকে ঘেরাওমুক্ত হতে সাহায্য করে। এরপর সকালে ওই নবনির্মিত ফ্ল্যাটগুলির ছবি পোস্ট করে তাঁর দাবি, কাজটি কেএমডিএ করছে, তাদেরই সব দায়িত্ব। তিনি শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ দ্রুত শেষের দাবি করতে পারেন। এভাবেই তিনি এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন।
