
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিদিনের মতোই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন বাবা-মা। কিন্তু স্কুল থেকে ফেরার সময় বাবা দেখেন, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ প্রায় অচেতন অবস্থায় রয়েছে। এরপর টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত রবিবার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন সহপাঠীদের অভিভাবকরা। অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থাতেই শিশুটিকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়নি। আরও অভিযোগ, সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও আড়াল করা হয়েছে।এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ নাথ নেতাজিনগরের মহর্ষি বিদ্যা মন্দির স্কুলের পড়ুয়া ছিল। তার বাবার দাবি, গত ১৩ মে অন্যান্যদিনের মতোই স্কুলে যায় আয়ুষ। কিন্তু যখন ছেলেকে আনতে যান, সেই সময় তাঁকে ফোন করে টিচার্স রুমে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সেখানে গিয়ে দেখেন, ছেলে অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আয়ুষকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন তিনি। সেখানে একরত্তির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে শুরু করে এরপরেই কোমায় চলে যায় সে। হাসপাতালেই গত রবিবার মৃত্যু হয় আয়ুষের। চিকিৎসকদের দাবি, মাথায় রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুই হয়েছে তার।ঘটনায় স্কুলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন আয়ুষের মা। তাঁর দাবি, স্কুলে গিয়েই সে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানিয়েছিল অসুস্থতার কথা। কিন্তু সেই কথায় কেউ কর্ণপাত করেনি। উলটে জানলার ধারে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বলা হয়। ওই অবস্থাতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে সে। শুধু তাই নয়, বাড়ি ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় গড়িয়ে পড়ে যায়। সেই সময় দেওয়ালে জোরে ধাক্কা খায় আয়ুষ। সেই সময় মাথায় গভীর চোট লাগে। কিন্তু স্কুলের কেউ একবার বিষয়টি পরিবারকে জানায়নি বলে অভিযোগ আয়ুষের মায়ের। পুরো ঘটনা বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।
ঘটনার পরেই নেতাজিনগর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। গাফিলতির অভিযোগে শুরু হয়েছে মামলা। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজও। অন্যদিকে এই ঘটনার পরেই এদিন নেতাজিনগরের মহর্ষি বিদ্যা মন্দির স্কুলের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। ঘটনায় অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
