
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তীব্র গরমে শরীর যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনই কমে যায় খিদে ও খাবারের প্রতি আগ্রহ। তেল-মশলাদার ভারী খাবারের বদলে মন চায় হালকা, সহজপাচ্য ও সতেজ কিছু। এই সময়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচলিত গ্রীষ্মকালীন খাবারগুলি হয়ে উঠতে পারে স্বস্তির সেরা ভরসা।
ভারতের একেকটি রাজ্যে গরমের খাবারের ধরনও আলাদা। কোথাও টক স্বাদের মাছের পদ, আবার কোথাও পাতলা ঝোলের হালকা রান্না—সবই শরীরকে ঠান্ডা রাখা ও হজমে সাহায্য করার জন্য তৈরি। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের রান্নায় এমন অনেক পদ রয়েছে, যা গরমে যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিকর ও হালকা।
* মসুর তেঙ্গা: গরমের মরসুমে টক খাবারে মুখে স্বাদ আসে। মাছ দিয়ে তৈরি পাতলা ঝোল হল মসুর তেঙ্গা, তবে খানিক টক স্বাদের। অসমের পরিচিত পদ এটি। কাতলা বা পোনা মাছ নুন-হলুদ দিয়ে ভেজে নিন। ঝোলের জন্য আলু ভেজে তুলে রাখুন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা, কাঁচা লঙ্কা এবং পাঁচ ফোড়ন দিন। যোগ করুন বেশ অনেকটা পরিমাণে টম্যাটো কুচি। নুন-হলুদ দিয়ে কষিয়ে নিন। টম্যাটো গলে তেল ছাড়লে আলু দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে গরম জল ঢেলে দিন। ঝোল ফুটে উঠলে মাছ দিয়ে দিন।
* কাচকলার পিতিকা: কাঁচকলা সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে খোসা ছাড়িয়ে রাখুন। এবার টম্যাটো, শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে নিন। পেঁয়াজ তেলে অল্প একটু সাঁতলে নিন। কাঁচকলা পেঁয়াজ, লঙ্কা, টম্যাটো, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা তেল-নুন দিয়ে ভাল করে হাত দিয়ে মেখে নিন। গরম ভাতে দারুণ লাগবে। সেদ্ধ বলে এটি হজমেও সমস্যা হবে না।
* দহি পুরা বেঙ্গন: অসমে নানা ভাবে দই-বেগুন খাওয়া হয়। বেগুন পুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে মেখে নিন। বেগুন ঠান্ডা হলে তার সঙ্গে যোগ করুন ফেটানো ঠান্ডা টক দই। দই আর বেগুন খুব ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। যোগ করুন স্বাদ মতো নুন। শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া জিরেগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন, আর দিন টাটকা পুদিনা পাতা। ক্রিমের মতো খাবারটি ভাত বা রুটি দুইয়ের সঙ্গেই খাওয়া যাবে।
অর্থাৎ, গরমের দিনে শুধু ঠান্ডা পানীয় নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই স্বাদে-গন্ধে অনন্য কিছু পদ।
