West Bengal

1 hour ago

West Bengal Elections: মালদহে সর্বদল বৈঠক সিইও-র, মোথাবাড়ি কাণ্ডে কড়া নজরদারি

CEO Manoj Kumar Agarwal
CEO Manoj Kumar Agarwal

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মোথাবাড়ি কাণ্ডের জেরে মালদহ জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার জেলায় এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এদিন তিনি মালদহে সর্বদল বৈঠক করেন এবং জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনিক ভবনে স্থাপিত নির্বাচনের কন্ট্রোল রুমও পরিদর্শন করেন তিনি। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। 

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় পয়লা এপ্রিল তিন মহিলা বিচারক-সহ সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে বিডিও অফিসের ভিতরে রাত পর্যন্ত আটকে রেখে বিক্ষোভে দেখানোর ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল মালদহের মোথাবাড়ি। মাঝরাতে বিচারকদের গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার তদন্ত করছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। গ্রেপ্তার আপাতত ৫৪ জন। মোথাবাড়ির ওই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। 

তার জেরে মালদহের ভোটে এবার বাড়তি নজর দিতে তৎপরতা শুরু করেছে কমিশন। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসে মালদহে সেটাই বুঝিয়ে দেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এ দিন জেলা প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন মনোজ। তারপর প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি কন্ট্রোল রুম খতিয়ে দেখেন। মনোজের সঙ্গে এদিন বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিমাংশুকুমার লাল, মালদহের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ অন্যরা। তিনি জানান, মালদহ জেলাতেও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ভোট পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হবে। যাঁরা নজরদারি চালাবেন তাঁদের ১০০ শতাংশ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জানান, পোলিং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। বুথে সিএপিএফের অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না। ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, যেখানে গন্ডগোল হবে সেখানে যাবেন। রাজ্য পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখবে। বিএলও থেকে শুরু করে কার কী কাজ আছে, নির্বাচন কমিশন কী ধরনের অ্যাকশন করবে তা সমস্ত রাজনৈতিক দলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি বেশি গন্ডগোল হয়, তাহলে রি-পোলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচনের আগে থানার ওসিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে মনোজ জানান, দুই-এক জন ওসি সাসপেন্ড হয়েছেন। ওসিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে কমিশন। কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আছে তা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, “আইনের উপর কেউ নেই। এবার শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছ ভোট হবে, কেউ ভয় করবেন না।” মনোজ আগরওয়াল আরও জানান, পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে আসতে না পারলে অন্য কেউ তাঁর ভোট দিতে পারবেন না। ২১ তারিখ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম নিষ্পত্তি হয়ে ভোটার তালিকায় উঠবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।

ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে কমিশন। প্রত্যেক জেলাতেই কন্ট্রোলরুম চালু হয়েছে। সেখান থেকে প্রত্যেক বুথ কভার হবে। প্রত্যেক বিধানসভায় তিনটি করে স্ক্রিন থাকবে। সেখানে সবসময় নজরদারি চলবে। যারা নজরদারি চালাবেন তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দিতে হবে। বুথে সব সময় সিএপিএফ নজরদারি চালাবে। তিনি ফের একবার জানান, সিভিক ভলান্টিয়াররা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও ডিউটিতে থাকবে না।  


You might also like!